তারেক রহমান বললেন

পিআর পদ্ধতি নির্বাচনী ব্যবস্থার উপযুক্ত নয়

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

সংখ্যানুপাতিক ভোটের দাবি দেশে বিচ্ছিন্নতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার বিকাশের পথ সুগম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল সোমবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের (বিএসপিপি) উদ্যোগে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘১৬ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা দেখেছি, কয়েকটি রাজনৈতিক দল হঠাৎ করেই দেশে পিআর বা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবি তুলেছে। বাংলাদেশে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রবর্তনের অর্থ হলো রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদ, ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার উত্থানের পথ প্রশস্ত করা।’ তিনি আরও বলেন, ‘সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থা বিভ্রান্তিমূলক এবং সমাজ ও সরকারের অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। দেশের জনগণের ঐক্য চাইলে সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনী ব্যবস্থা কোনোভাবেই চালু করা উচিত নয়।’

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ‘কিছু দল পিআর ব্যবস্থার দাবিকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে দেখলেও, বিএনপি মনে করে বাংলাদেশ এই নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত নয়।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান দুর্ঘটনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে পেশাজীবীদের ভূমিকার ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এ ছাড়া সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ জুলাই অভ্যুত্থানে পেশাজীবীদের অবদানের ওপর একটি স্মারক প্রকাশ করে, যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ফ্যাসিবাদী সরকারের নিপীড়নের শিকার নিহতদের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।

বিএসপিপির আহ্বায়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর বড় ভাই অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্ত্রী নাসরিন হক, প্রয়াত অধ্যাপক এমাজ উদ্দীন আহমেদের মেয়ে অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন, প্রয়াত সাংবাদিক এবিএম মূসার ছেলে ডা. নাসিম মূসা পরশ, গিয়াস কামাল চৌধুরীর ছেলে রফিক-উম মুনির চৌধুরী প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত