মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নার্স ও সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে ভারত

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় চিকিৎসাধীন আহতদের সাহায্য করার জন্য ভারত থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত কিছু সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা চূড়ান্ত হয়েছে।

দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র জানায়, তারা আশা করছে দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাদের বার্ন ইউনিটে কাজ করার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা আছে, তারা নার্সদের একটি ছোট টিম নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে যাবে। ওই সূত্র জানায়, পাঠানো হচ্ছে মেডিকেল ইকুইপমেন্টও। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী আরও চিকিৎসকও যাবেন।

গত সোমবারের ওই দুর্ঘটনার কিছুক্ষণ পরই ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি বাংলাদেশে তার কাউন্টারপার্টকে ফোন করেন এবং যেকোনো দরকারে ভারত সর্বতোভাবে সাহায্য করতে প্রস্তুত বলে জানান।

এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে বিমান দুর্ঘটনায় তার শোক ব্যক্ত করেন এবং জানান, এ সংকটে ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে এবং সব ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দিতে প্রস্তুত। মাইলস্টোন স্কুলে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তার পর ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে শোক জানিয়ে দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য সবরকম ও সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে লেখা ওই চিঠিতে ভারতীয় হাইকমিশন আহতদের জন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল সাপোর্ট বিষয়ে তথ্য শেয়ার করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি। বলা হয়েছে, এ বিয়োগান্ত দুর্ঘটনায় গুরুতর আহতদের ভারতে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজনীয় সবরকম সুবিধা দেবে ভারতীয় হাইকমিশন।

সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লিতে জানানো হয়েছিল, বেশিরভাগ আহতের শরীর পুড়ে গেছে তাই এই দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ দল, ইকুইপমেন্ট ও অত্যাধুনিক ওষুধপত্র পেলে সবচেয়ে সুবিধা হবে। সেই অনুরোধ অনুযায়ী দিল্লিও সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয় এবং নার্সসহ দুজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।

ঢাকায় ভারত থেকে আরও ডাক্তার ও নার্স পাঠানোর প্রক্রিয়াও চলমান আছে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রায় এক বছর ধরে ‘কূটনৈতিক শৈত্য’ দেখা গেলেও সংকটের মুহূর্তে দুই দেশ যে মানবিকতার পরিচয় দিয়ে কাছাকাছি আসতে পারল, পর্যবেক্ষকরা সেটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত