হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চান শহীদ রিয়াজুলের স্ত্রী

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ১২:৩৮ এএম

‘আমি দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। একটি ভালভ নষ্ট, হার্টের সমস্যা। শরীরে নানা রোগব্যাধি। তবু একদিন, এক রাতের জন্যও আমার স্বামী আমাকে ছাড়া থাকত না। প্রতিদিন কাজ শেষে রাতে বাড়িতে ফিরে দরজায় টোকা দিত। একবছর হলো ভালোবাসার মানুষটা দরজায় টোকা দিয়ে আমাকে ডাকে না। এখন কেবল দুশ্চিন্তা এসে ভর করে, স্বামী ছাড়া দুই মেয়ে নিয়ে জীবনের বাকি দিনগুলো কেমনে কাটামু। আবার স্বামীর সেই দিনগুলোর স্মৃতি ভুলে যাই কী করে।’ কান্নাজড়ানো কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন গত বছরের ৪ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ শহরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত দিনমজুর শহীদ রিয়াজুল ফরাজীর (৩৯) স্ত্রী রুমা আক্তার।

শহীদ রিয়াজুল জেলা শহরের উত্তর ইসলামপুর এলাকার প্রয়াত কাজী মতিন ফরাজীর ছেলে। দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে ছিল রিয়াজুল ফরাজীর সংসার। এর মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন ধারদেনা করে। ছোট মেয়ে পড়ছে দশম শ্রেণিতে। একমাত্র উপার্জনক্ষম রিয়াজুলের চলে যাওয়া কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না স্ত্রী ও মেয়েরা।

বাবার কথা যখনই মনে পড়ে, তখনই কেঁদে উঠে ছোট মেয়ে খুকু আক্তার।  সরকার পতনের এক দফার আন্দোলনে গত বছরের ৪ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে শহরের থানারপুল চত্বর থেকে পিটিআই মোড় ও থানারপুল থেকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সড়কে ছাত্র-জনতা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলচিল। সেদিন কৃষিব্যাংক মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত তিনজনের মধ্যে একজন দিনমজুর রিয়াজুল ফরাজী। 

জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে  ৫ লাখ, সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা  পেয়েছেন রিয়াজুলের পরিবার। এ ছাড়া জামায়াত ও  বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছেন। সেই টাকায় রিয়াজুলের স্ত্রী রুমার চিকিৎসা চলছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ ভাবনায় জীবন যেন থেমে যাচ্ছে তার।

রুমা আক্তার জানান, স্বামীর যে পৈত্রিক বসতভিটায় থাকছেন তার পরিমাণ খুবই কম। পৌনে এক শতাংশ জায়গায় একটি ঘরে কোনোরকমে বসবাস করছেন। তার স্বামীর তিন ভাই ও তিন বোনও সেই জায়গার মালিক। তার কোনো ছেলে নেই। সেই জমি ভাগাভাগি হলে সেখানেও তার মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না।

রিয়াজুল ফরাজী নিহতের ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট  মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. ফয়সাল বিপ্লবকে প্রধান আসামি করে অন্তত ৫০০ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন রুমা আক্তার। শহীদ রিয়াজুলের স্ত্রী তার স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেছেন। তিনি এ দেশের মাটিতে হত্যাকারীদের ফাঁসি দেখতে চান। হত্যার সুষ্ঠু বিচার হলেই তার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে বলে মনে করেন  রুমা। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামীকে কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে না। তবে হত্যাকারীদের যথাযথ বিচার হলে স্বামী হারানোর যন্ত্রণা কিছুটা হলেও ঘুচবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত