জার্মানির রক্ষণ ভেঙে ইউরোর ফাইনালে স্পেন, ফের মুখোমুখি ইংল্যান্ডের

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ০১:৫১ পিএম

রক্ষণ যেন ছিল প্রাচীন দুর্গের মতো, আঁটসাঁট, নিখুঁত। ১১২ মিনিট ধরে সেই প্রাচীরের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যর্থ হচ্ছিল স্পেন। বারবার আক্রমণ করেও মিলছিল না কাঙ্ক্ষিত ফল। অবশেষে ১১৩তম মিনিটে সেই জট খুলল। ইতিহাস রচনা করল স্পেন, পৌঁছে গেল ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে।

সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অনুষ্ঠিত উইমেন’স ইউরো ২০২৫-এর সেমিফাইনালে জার্মানিকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোর ফাইনালে উঠল স্প্যানিশ মেয়েরা। আর এই জয়ের মধ্য দিয়েই নিশ্চিত হলো গত বিশ্বকাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি—ইউরোর শিরোপা লড়াইয়েও মুখোমুখি হচ্ছে স্পেন ও ইংল্যান্ড।

গোলশূন্য ম্যাচের প্রায় শেষ ধাপে এসে নাটকীয়তায় মোড় নেয় ম্যাচ। ১১৩তম মিনিটে টানা আক্রমণ থেকে দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন বার্সেলোনার মিডফিল্ডার আইতানা বনমাতি। অসুস্থতার কারণে যাকে নিয়ে শুরুতে শঙ্কা ছিল, সেই ২৭ বছর বয়সী তারকাই শেষ হাসি হাসালেন। দলকে তুললেন ইউরোর ফাইনালে, নিজেও হয়ে উঠলেন নায়ক।

স্পেনের মেয়েরা এর আগে কখনও বড় টুর্নামেন্টে জার্মানিকে হারাতে পারেনি। এবারই প্রথমবার। আর ইউরোর ইতিহাসে এটি জার্মান মেয়েদের মাত্র দ্বিতীয় সেমিফাইনাল হার—১০ বারের মধ্যে ৯ বারই তারা জিতেছিল শেষ চারে।

স্পেন ম্যাচে বল দখলের লড়াইয়ে ছিল একচেটিয়া। মোট বলের ৬৭ শতাংশ সময় নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা, নেন ২২টি শট, যার ৯টি ছিল লক্ষ্যে। জার্মানির রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষক টানা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত বাঁধ মানে।

ম্যাচের পর মাঠজুড়ে যখন উৎসবে মেতে ওঠে লাল জার্সিধারীরা, তখন হতাশায় ডুবে চোখ ভিজিয়ে বিদায় নেয় জার্মান শিবির।

ম্যাচজয়ী গোলদাতা বনমাতি বলেন, 'আমি ভাগ্যে বিশ্বাস করি না, আস্থা রাখি আমার প্রক্রিয়ায়, নিজের কাজ ও মানসিকতায়। আমি গর্বিত—এই সাফল্য আমাদের প্রাপ্য। যারা আমার পাশে ছিলেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।'

আসছে রবিবার, বাজেল স্টেডিয়ামে ইউরোর শিরোপা লড়াইয়ে নামবে স্পেন ও ইংল্যান্ড। বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংলিশদের হারিয়ে যাদের প্রথম বিশ্বসেরা হওয়ার স্বাদ পেয়েছিল স্পেন, এবার সেই প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে তারা লড়বে নিজেদের প্রথম ইউরো শিরোপার জন্য।

অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড মাঠে নামবে ট্রফি ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত