গোপালগঞ্জের ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৫, ০৬:২৪ এএম

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশ কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় সাবেক বিচারপতি ড. মো. আবু তারিকের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলা সদরে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত জনসভাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জেলা কারাগারসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা ও নাগরিক নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার বিষয়সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য ঘটনা উদঘাটনের লক্ষ্যে একজন সাবেক বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

এই কমিশন দ্য কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫৬-এর ৩ নম্বর ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গঠিত হয়েছে। কমিশনের সভাপতি হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মো. আবু তারিক। অন্য সদস্যরা হলেন খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব,জননিরাপত্তা বিভাগ; মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ), আইন ও বিচার বিভাগ; ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহীদুর রহমান ওসমানী, কমান্ডার, ২১ পদাতিক ব্রিগেড; সরদার নূরুল আমিন, পরিচালক (অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক), কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এবং ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, চেয়ারম্যান, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

তদন্ত কমিটি জানায়, এনসিপির জনসভায় নিষিদ্ধ থাকা ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী ও সমর্থক পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। সে সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে প্রশাসন প্রথমে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় কারফিউ জারি করা হয় এবং সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হয়। সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা ঘটে, যার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা কারাগারসহ একাধিক সরকারি স্থাপনায় হামলার ঘটনাও ঘটে।

কমিশনের দায়িত্ব হচ্ছে ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ উদঘাটন, দায়ী ব্যক্তি বা গোষ্ঠী চিহ্নিতকরণ, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ, সরকারি স্থাপনায় হামলার বিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সুপারিশ প্রণয়ন। প্রয়োজনে কমিশন যেকোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ কমিশনকে কাজ করার জন্য দাপ্তরিক সহায়তা, বাজেট বরাদ্দ এবং সরকারি কর্মীদের সহায়তা দিতে বলেছে। কমিশনকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সুস্পষ্ট অভিমত ও সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত