হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৬ এএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে সংস্কারকাজের চারদিনের মাথায় সড়কের কারপেটিং উঠে যাওয়ায় অভিযোগ উঠেছে। সামান্য হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কারপেটিং। এতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ এনে সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসী। তবে শিডিউলমতো সড়কের কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সুরুজ আলীর।

উপজেলার রিকাবী ও চকচকা গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বাশমুড়ি হাট থেকে রিকাবী ও চকচকা হয়ে পালশা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের কারপেটিং শুরু করা হয়। দুই কোটি ৮ লাখ টাকা বরাদ্দের কাজটি পায় দিনাজপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর এ ট্রেডার্স। ইতিমধ্যে সড়কের কিছু অংশ কারপেটিং করেছে ঠিকাদার। কিন্তু কারপেটিং করার চারদিনের মাথায় সড়কের পিচ উঠে যাওয়ার অভিযোগ করছেন স্থানীয় গ্রামবাসী।

স্থানীয় আতাউর রহমান বলেন, ‘চারদিন হলো আমাদের এই রাস্তার কারপেটিং করে গেছে। কিন্তু এখন সামান্য হাতের ছোয়াই রাস্তার কারপেটিং উঠে যাচ্ছে। এমন নিম্নমানের কাজ করেছে যে এই রাস্তা এক মাসও টিকবে না। এর ফলে আমরা গ্রামবাসীরা মিলে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। আমরা চাই, রাস্তার কাজ ভালোভাবে করা হোক। সরকার যে টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সেই টাকা দিয়ে শিডিউল মোতাবেক কাজ করা হোক। এটা তো কারও ব্যক্তিগত কাজ নয়, এই রাস্তা তো সবাই ব্যবহার করবে। তাই কাজটি ঠিকঠাক করতে হবে। আমরা গ্রামবাসীরা বারবার বলার পরও উন্নত মানের সামগ্রী আনেনি ঠিকাদারের লোকজন। তাই উন্নত মানের সামগ্রী না আনা পর্যন্ত আমরা তাদের কাজে হাত দিতে দেব না।’

স্থানীয় হবিবর রহমান বলেন, ‘সরকার জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে রাস্তা নির্মাণের জন্য কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, কিন্তু সেই রাস্তার নির্মাণকাজ তো ভালো হচ্ছে না। এটা শুধু সরকারকে ফাঁকি দিয়ে কোনোরকম লোকদেখানো কাজ করা হচ্ছে।’

কাজ পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর এ ট্রেডার্সের মালিক সুরুজ আলী বলেন, ‘বর্তমানে তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি চলছে, এই তাপমাত্রায় পিচ গলবেই। কয়েক দিনের মধ্যেই পিচ ঠিকমতো বসে যাবে। কাজের গুণগত মান শতভাগ ঠিক আছে। উপজেলা প্রকৌশল অফিসের লোকজন রয়েছে, তারা কাজ তত্ত্বাবধান করছে। কাজেই আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সঠিক নয়।’

হাকিমপুর উপজেলা প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, সেখানে কাজ শিডিউল মোতাবেক হচ্ছে। আর বিটুমিনের পরিমাণ ঠিক আছে কি না সেটি জানতে হলে ল্যাবরেটরি টেস্ট করতে হবে। এজন্য আমরা ওই কারপেটিংয়ের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য দিনাজপুরের ল্যাবে পাঠিয়েছি। এখন পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই বলা যাবে বিটুমিন ঠিক আছে কি না। যদি কাজে গাফিলতি হয়, তাহলে ওই ঠিকাদার দিয়ে পুনরায় কাজটি করিয়ে নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত