স্কুলে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন তুলছেন শিক্ষক দম্পতি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৫, ১২:৫৮ এএম

টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক শিক্ষক দম্পতি মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি অংশের বেতনভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে না থেকেও কীভাবে তারা এই সুযোগ পাচ্ছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের সুরীরচালা আব্দুল হামিদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর থেকে এবং তার স্ত্রী সহকারী শিক্ষক হাজেরা খাতুন একই বছরের ৭ নভেম্বর থেকে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। দুজনই বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় প্রায় ৯ মাস ধরে স্বাক্ষর করছেন না। অথচ, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে তারা নিয়মিতই সরকারি অংশের বেতনভাতা পাচ্ছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। তার বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে সহধর্মিণী হাজেরা খাতুনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

তবে প্রধান শিক্ষক কফিল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ মিথ্যা। আর তার স্ত্রী বৈধভাবেই নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা বিদ্যালয়ে ফিরে যেতে আগ্রহী, কিন্তু সেখানে আমাদের জন্য পরিবেশ নেই। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সভাপতি মহোদয়ের পাঠানো নোটিসের জবাব আমরা যথাসময়ে দেব।’

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে ওই শিক্ষক দম্পতি নিয়মিত সরকারি অংশের বেতনভাতা উত্তোলন করছেন। তাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়ে আমরা নোটিস প্রদান করেছি এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কোনো সুযোগ নেই। ওই দম্পতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত