চাঁদাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের পাঁচ নেতা। গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সাম্মী আহমেদের বাড়িতে চাঁদা চাইতে গেলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের হাতেনাতে আটক করে। আটক পাঁচজনের মধ্যে তিনজন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা। বাকি দুজন জাতীয় নাগরিক পার্টির ছাত্র শাখা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের নেতা।
গুলশান থানার ওসি হাফিজুর রহমান গতকাল রাতে জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমান (রিয়াদ) ও যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপু এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম, সম্মিলিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সাদমান সাদাব ও ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্নাকে আটক করা হয়।
ওসি জানান, আটক ব্যক্তিরা প্রথম দফায় সাবেক এই সংসদ সদস্যের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে (৭৪) জিম্মি করে, গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা আদায় করেন। এর পরে আরও দুই দফা সেই বাসায় গিয়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
গতকাল তৃতীয় বারের মতো সেই বাসায় গিয়ে হুমকি-ধমকি দেয় অভিযুক্তরা। তখন সিদ্দিক আবু জাফর পুলিশের সহায়তা চাওয়ায় অভিযুক্তদের আটক করে গুলশান থানা-পুলিশ।
রাত দশটার দিকে ওসি বলেন, ‘আমরা ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। ভুক্তভোগী আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করছেন। মামলা সম্পন্ন হলে আমরা তাদের গ্রেপ্তার দেখাব।’
ভুক্তভোগী সিদ্দিক আবু জাফর থানায় করা অভিযোগপত্রে বলেছেন, ‘সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে গত ১৭ জুলাই সকালে রিয়াদ এবং অপু তাদের বাসায় ঢুকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে পঞ্চাশ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তারা ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তার করানোর হুমকি দেন। সেদিন তিনি ‘বাধ্য হয়ে’ তাদের ১০ লাখ টাকা দেন। এরপরে গত ১৯ জুলাই রাতে তারা আবার বাসায় ঢুকে। সেদিন বিষয়টি তিনি গুলশান থানাকে জানান। পুলিশকে ফোন করার বিষয় টের পেয়ে সেদিন তারা চলে যান। এরপর গতকাল (শনিবার) বিকেলে তারা আবারও বাসার সামনে টাকা (চাঁদা) নিতে আসে।
সিদ্দিক আবু জাফর অভিযোগপত্রে আরও দশ থেকে বারোজনকে অভিযুক্ত করেছেন। তিনি পুলিশকে প্রথম দফায় টাকা দেওয়ার ভিডিও দেখান। ওই ভিডিওতে রিয়াদ, অপুসহ আরও কয়েকজকে দেখা যায়। পুলিশও ভিডিওর সত্যতা করেছে।
এদিকে এই ঘটনার পরে গতকাল রাতেই নিজ নিজ সংগঠন থেকে আটক পাঁচজনের মধ্য থেকে চারজনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিক এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সাংগঠনিক নীতিমালা ও শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম ও সাদাবকে সাংগঠনিক পদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।’
এ ছাড়া গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সেল সম্পাদক (দপ্তর) মাহফুজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছে যে কতিপয় ব্যক্তি সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজি করতে গেলে সেখানে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক জানে আলম অপুর সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংগঠনের ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং চাঁদাবাজির সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্টতার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার ও সদস্য সচিব জাহিদ আহসানের নির্দেশনায় জানে আলম অপুকে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের সব পর্যায়ের দায়িত্ব ও সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হলো।’
আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘এরা আমাদের সংগঠনের পরিচয়ে নয় বরং সমন্বয়ক পরিচয়ে এসব কাজ করছে। আমরা এসব চাঁদাবাজকে প্রশ্রয় দিই না। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের বহিষ্কার করেছি।’
