গুমের সঙ্গে জড়িত শেখ হাসিনাসহ অন্যদের বিচার নিশ্চিত না হলে এ দেশে গুমের সংস্কৃতি আবারও ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে গুমের আলামত নষ্ট এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এমনকি রয়েছে হুমকি ও নানা ধরনের অসহযোগিতাও। এ ধরনের নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। গতকাল শনিবার খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার হলে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সদস্য সাজ্জাদ হোসেন ও ড. নাবিলা ইদ্রিস খুলনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার এবং গুম থেকে ফিরে আসা ভিকটিমসহ শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ সভা ও সেমিনারে এসব কথা বলেন। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সহযোগিতায় মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ এ পরামর্শ সভা ও সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, কমিশন মনে করছে, বিচারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গুমের সঙ্গে জড়িত তৎকালীন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা পালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে বিচার নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে। তবে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই গুমের ঘটনাগুলো অনুসন্ধানের মাধ্যমে এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করার সব ধরনের তথ্যই সংগ্রহ করছে। যাতে করে অভিযুক্তদের বিচার নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গবেষণাগার হলে ‘বলপূর্বক গুমের ঘটনা মোকাবিলা : কীভাবে এগিয়ে যাওয়া যায়’ শীর্ষক সেমিনারের সঞ্চালনায় ছিলেন অধিকারের পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। বক্তৃতা করেন জাতিসংঘের ঢাকার মানবাধিকারবিষয়ক কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন।
অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, খুলনা জেলা আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট ড. মো. জাকির হোসেন, জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ড. নাজমুস সাদাত শুভ।
এর আগে ২৫ জুলাই নগরীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে গুম থেকে ফেরত আসা ব্যক্তি ও গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের খুলনা বিভাগীয় পরামর্শ সভায় বক্তৃতা করেন গুম কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।
