কানাডায় দাবানল, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন নিউ ইয়র্ক

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৫, ০৭:৩৪ এএম

দাবানলে পুড়ছে কানাডা। এরই মধ্যে দাবানলের কারণে হাজার হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে। কানাডার এই দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি এবং আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে নিউইয়র্ক রাজ্যের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগ। গত শনিবার লং আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক সিটি মেট্রো, লোয়ার হাডসন ভ্যালি, আপার হাডসন ভ্যালি এবং অ্যাডিরন্ড্যাকস এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়। কর্র্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, এই অঞ্চলগুলোর বায়ুমান সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। নিউইয়র্ক রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকায় বায়ুমান সূচক ১০০-এর ওপরে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই সূচক ১৩৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। নিউ ইংল্যান্ডের কিছু অংশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বায়ুমান সূচক বাতাসে দূষণের তীব্রতা পরিমাপ করে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ধারণ করে। সূচক যত বেশি হয়, বাতাস ততই শ্বাস নেওয়ার জন্য অনিরাপদ হয়ে ওঠে। এর আগেও কানাডার দাবানলের ধোঁয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র কর্র্তৃপক্ষ বায়ুমান সতর্কতা জারি করেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে শিকাগোর জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, যেখানে শিশু ও বয়স্কদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। এমনকি দাবানলের ধোঁয়া রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলেছে। জুলাইয়ের শুরুতে কংগ্রেসের ছয়জন সদস্য কানাডার রাষ্ট্রদূতকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানান, দাবানলের ধোঁয়া আমেরিকানদের জন্য গ্রীষ্ম উপভোগ করা কঠিন করে তুলছে।

বর্তমানে কানাডায় ৫৫০টিরও বেশি সক্রিয় দাবানল রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মনিটোবা প্রদেশে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। গত এক বছরে দেশ জুড়ে ৬ দশমিক ১ মিলিয়ন হেক্টর (১৫ মিলিয়ন একর) জমি দাবানলে পুড়ে গেছে। মে ও জুন মাসের দাবানলে সাসকাচোয়ান এবং মনিটোবা প্রদেশে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে তাদের বাড়িঘর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। বিজ্ঞানীরা দাবানলের ঋতু ক্রমাগত তীব্রতর হওয়াকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে নিয়মিতভাবে সংযুক্ত করে আসছেন। এ ছাড়া বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, কানাডা বিশ^ গড় হারের দ্বিগুণ হারে উষ্ণ হচ্ছে এবং এর আর্কটিক অঞ্চলগুলো বিশ^ গড় হারের প্রায় তিন গুণ হারে উত্তপ্ত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত