দৈনিক বৃষ্টি, বৃষ্টির মাঝেই যাত্রা—এ যেন ঢাকাবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কয়েকদিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবনে দেখা দিয়েছে চরম দুর্ভোগ। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও যানজট আর পচা গন্ধে ভরা রাস্তা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই অবস্থার শিগগিরই উন্নতি হচ্ছে না; বরং বৃষ্টি আরও বাড়বে।
আজ সোমবার সকাল ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৬ ঘণ্টা জুড়ে এমন আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, আজ ঢাকায় সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, বাতাসে আদ্রতা ৯৮ শতাংশ। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি, আজকের সর্বনিম্ন ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ৫০ মিলিমিটার।
আবহাওয়ার এই চিত্র শুধু ঢাকায় নয়—সারা দেশেই বিরাজ করছে একই ধরনের অবস্থা। আগামী পাঁচ দিন দেশের অধিকাংশ বিভাগেই বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে খুলনা, সিলেট, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগে কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম—প্রায় সব বিভাগেই এই সপ্তাহজুড়ে একাধিকদিন বৃষ্টিপাত হবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ২৯ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কিছু জায়গায় ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে চট্টগ্রামে—১০৯ মিলিমিটার। এরপর আমবাগানে ৯২ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ৮৬ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৬৯ মিলিমিটার, খেপুপাড়ায় ৭১ মিলিমিটার এবং ঢাকায় ৫০ মিলিমিটার।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর অনেক এলাকায় সড়কে পানি জমে গেছে। বিশেষ করে মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, খিলগাঁও, মালিবাগ, বাড্ডা ও বসুন্ধরা এলাকায় জলাবদ্ধতায় মানুষকে হাঁটতে হচ্ছে হাঁটু পানি মাড়িয়ে। বৃষ্টির কারণে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে, অফিসগামীদেরও সময়মতো পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মৌসুমি বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি মাত্রায় সক্রিয় এবং বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মৌসুমি নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশ এলাকায় অবস্থান করলেও এর প্রভাব এখনো বাংলাদেশে স্পষ্ট।
তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও আর্দ্রতা বেশি থাকায় জনজীবনে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। রাজধানীর বাসিন্দা সুমাইয়া রহমান বলেন, ‘বৃষ্টি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু গরমও কমছে না। আবার জলে ভরা রাস্তায় চলাফেরা করা দুঃসহ হয়ে উঠেছে।’
আগামী পাঁচ দিন আবহাওয়ার বিশেষ পরিবর্তন না থাকায় নাগরিক দুর্ভোগ কমার সম্ভাবনাও নেই। বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে নাগরিকদের জলাবদ্ধতা ও যানজট মোকাবিলা করেই চলতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩ মামলায় ১৭ আসামি ট্রাইব্যুনালে
ভারত-পাকিস্তানের খেলা বন্ধ রাখা যাবে না, মত সৌরভ গাঙ্গুলির