নতুন মৌসুমকে সামনে রেখে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম আবারও নতুন চেহারায় হাজির হতে যাচ্ছে। এবার শুধু ইউরোপিয়ান ফুটবলের জন্যই নয়, বিশ্বব্যাপী বহু ধরনের ইভেন্ট আয়োজনের মঞ্চ হিসেবেও দেখা যাবে রিয়াল মাদ্রিদের হোম ভেন্যুটিকে।
স্পেনের মাটিতে প্রথমবারের মতো একটি অফিসিয়াল ন্যাশনাল ফুটবল লিগ (যা অনেকটা রাগবির মতো) ম্যাচ আয়োজন হবে মাদ্রিদের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ভেন্যুতে। এ এক নতুন অধ্যায়, যেখানে ‘ফুটবল মন্দির’ বার্নাব্যু আর শুধু রিয়াল মাদ্রিদের ঘরের মাঠ নয়, বরং এক ‘মাল্টিফাংশনাল গ্লোবাল অ্যারেনা’।
নতুন এই রূপান্তর আকস্মিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী এক পরিকল্পনার অংশ। মাদ্রিদ ও বার্নাব্যুকে আন্তর্জাতিক ইভেন্টের আদর্শ ভেন্যুতে পরিণত করতেই নেওয়া হয়েছে ১.৩৪৭ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের বিশাল সংস্কার প্রকল্প।
এই সংস্কারের অন্যতম প্রযুক্তিগত বিস্ময় হলো হাইপোজিয়াম সিস্টেম, যার মাধ্যমে মূল খেলার মাঠটিকে নিচে নামিয়ে রাখা যায়—যাতে একদিন ফুটবল, আরেকদিন কনসার্ট, কখনও প্রদর্শনী বা এবার যেমন আমেরিকান ফুটবল আয়োজন সম্ভব হয়।
এনএফএল এখানেই খেলবে, এর অন্যতম বড় কারণ এই বহুমুখিতা। ইতিমধ্যে টিকিট বিক্রিতে তুমুল সাড়া—দাম ৭৫ ইউরো (রিস্ট্রিকটেড ভিউ) থেকে শুরু করে ৩৫০ ইউরো (সাইডলাইন প্রিমিয়াম) পর্যন্ত। ভিআইপি বক্স ও আসনের দাম আরও বেশি।
আমেরিকান ফুটবলের মাঠ ইউরোপিয়ান ফুটবলের চেয়ে আকারে আলাদা (১০৯.৭ x ৪৮.৮ মিটার বনাম ১০৫ x ৬৮ মিটার)। ফলে মাঠের প্রান্তের কয়েকটি গ্যালারির সারি অপসারণ করা হবে, যার জায়গায় থাকবে রিট্র্যাক্টেবল স্ট্রাকচার। এসব বদল স্টেডিয়ামকে শুধু এনএফএল নয়, বাস্কেটবল কিংবা বড় কনসার্ট মঞ্চের জন্যও প্রস্তুত করে তুলবে। এছাড়া প্রথম স্তরের (আম্ফিথিয়েটার) গ্যালারিতে দুই সারি যুক্ত করা হবে, যার ফলে ধারণক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শকের অভিজ্ঞতাও উন্নত হবে।
তবে সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন উঠছে চেঞ্জিং রুম নিয়ে। ফুটবলের চেয়ে আমেরিকান ফুটবল দলে খেলোয়াড়ের সংখ্যা অনেক বেশি—৫৩ জন মূল দলে, সঙ্গে ১০ জন রিজার্ভ ও প্রায় ৬০–৭০ জন কোচ, মেডিকেল, ইকুইপমেন্ট, ম্যানেজমেন্ট সদস্য। মোট অন্তত ১২০ সদস্যের এই বহরকে পুরোনো কাঠামোয় সামলানো কঠিন।
মায়ামিতে ডলফিন্স দলের ট্রেনিং কমপ্লেক্স ঘুরে এসে জানা গেছে, তারা মাদ্রিদে এসে স্টেডিয়ামের কিছু রুম নতুন করে খুলে ব্যবহার করার কথাও ভাবছে।
সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় অবশ্য মাঠ। আগের ঘাস তুলে নতুন ঘাস বসানো হয়েছে, নিচে রয়েছে কৃত্রিম বেস। নতুন এই ঘাস বর্তমানে প্যানেলের নিচে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, যাতে গরমে ক্ষতি না হয়। এনএফএল ম্যাচ ও জুনিয়র মৌসুম শুরুতে এই ‘প্রিমিয়াম টার্ফ’ই ব্যবহৃত হবে।
স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের মাঝামাঝি জায়গায় নতুন এক বাণিজ্যিক রিং তৈরি হচ্ছে, যা পুরো ভিজ্যুয়াল এবং বিপণন ব্যবস্থাকে একত্র করবে। এর মাধ্যমে ডাইনামিক, ইমার্সিভ বিজ্ঞাপন প্রচার সম্ভব হবে—যা আন্তর্জাতিক ক্রীড়াভেন্যুগুলোর মান অনুযায়ী।
তাসকিনের বিরুদ্ধে মারধর ও হুমকির অভিযোগে তদন্তে পুলিশ, সরব বিসিবিও
বিপিএলের মার্কেটিং ও ব্র্যান্ডিংয়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী আইপিএল-পিএসএলে কাজ করা পাঁচ প্রতিষ্ঠান
ড্রো নামটা মনে রাখুন, যার খেলায় মুগ্ধ ফ্লিক ও বার্সেলোনা