দেশের চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন নিয়ে চবি প্রশাসনের উদ্যোগ, অগ্রগতি যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়।
চাকসু নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর কেটে গেছে ৩৫ বছর ৫ মাসের বেশি সময়। নির্বাচনী হাওয়া লাগেনি চাকসুতে। তবে আশার আলো দেখছে ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ঘোষণা করা হয়েছে এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তফসিল।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন, ১১ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন এবং ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন।
নব্বইয়ের দশকে চাকসু নির্বাচনের পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নানা অজুহাতে নির্বাচন আয়োজন থেকে বিরত থেকেছে, যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। গেল বছরের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর চাকসু নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব চাকসু নির্বাচন আয়োজনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তার অগ্রগতি যথেষ্ট দৃশ্যমান নয়।
চাকসুর নীতিমালা প্রণয়নের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি কমিটি গঠন করে। তবে এখনও নির্বাচনের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। সাধারণ শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, অতিসত্বর চাকসু নির্বাচন আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
চাকসু নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শিক্ষার্থীরা সরব রয়েছেন। রাকিব হোসাইন শুভ্র নামে একজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, “রাকসু, ডাকসুর আগেই চাকসু দিতে হবে এবং আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। এই দেশে কোনোকিছুই আন্দোলন ছাড়া হয় নাই ভাই। চাকসু আমাদের প্রাণের দাবি।”
চাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্নভাবে সমালোচনা করতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। চবি প্রশাসনকে ব্যাঙ্গ করে একজন শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন “ম্যাংগোবার প্রশাসন”। তাহসান হাবীব নামে ঐ শিক্ষার্থী লিখেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সরব ছিল চাকসু নিয়ে। আমরা ম্যাংগোবার প্রশাসনের কাছে জানতে চাই চাকসু হচ্ছে কবে?”
