চীন
এশিয়ান কাপের ইতিহাসে সফলতম দলটির নাম চীন। ১৯৭৫ সালে শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের মোট ৯ বার সেরা হয়েছে চীন। শুরুটা ১৯৮৬ সাল থেকে। হংকংয়ে অনুষ্ঠিত আসরে শিরোপা জয়ের পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। টানা সাতবার শিরোপা জয়ের পর ২০০১ সালে থামতে হয় চীনকে। এরপর টানা দুই আসরে শিরোপার কাছে গিয়েও জেতা হয়নি শিরোপা। সেই আক্ষেপ তারা ঘোচায় ২০০৬ সালে। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে চীন ফাইনালে হারায় স্বাগতিকদের। এরপর অবশ্য নবম শিরোপার জন্য চীনকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১৬ বছর। ২০২২ সালে ভারতে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আসরের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে চীন। সে সুবাদে এবার তারা এশিয়ান কাপে খেলছে সরাসরি। নারী বিশ্বকাপে নিয়মিত খেলা চীন ২০২৩ সালে সর্বশেষ বৈশ্বিক আসর থেকে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকে। বর্তমান ফিফা র্যাংকিংয়ে চীনের অবস্থান ১৭তম। অর্থাৎ বাংলাদেশ ৩ মার্চ তাদের অভিযান শুরু করবে ১১১ ধাপ এগিয়ে থাকা চিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
উত্তর কোরিয়া
৬ মার্চ বাংলাদেশকে দিতে হবে আরও বড় পরীক্ষা। বিশ্ব র্যাংকিংয়ে উত্তর কোরিয়া আগামী বছর এশিয়ান কাপ খেলবে র্যাংকিংয়ের হিসেবে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে। উত্তর কোরিয়া এই আসরে খেলছে ১৯৮৯ সাল থেকে। গত আসর থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়া উত্তর কোরিয়া এ পর্যন্ত ১১ আসর খেলে তিনবার চ্যাম্পিয়ন ও তিনবার রানার্স-আপ হয়েছে। তারা ২০০১, ২০০৩ ও ২০০৮ সালে শিরোপা জিতেছে। উত্তর কোরিয়া বাছাইয়ে এইচ গ্রুপের সেরা হয়ে এশিয়ান কাপে ফিরেছে ঠিক ১৫ বছর পর। মাঝের তিনটি আসরে নানা কারণে খেলেনি তারা। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলা হয়নি তাদের। পরেরবার তারা বাছাই উতরাতে পারেনি। আর সর্বশেষ ২০২২ সালে তারা নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। বাছাইয়ে একচেটিয়া প্রাধান্য বিস্তার করে সেরা হয় উত্তর কোরিয়া। তিন ম্যাচে হারিয়েছে যথাক্রমে তাজিকিস্তান, ফিলিস্তিন ও মালয়েশিয়াকে। তিন ম্যাচে তারা করেছে মোট ২৬ গোল। বিপরীতে কোনো গোল হজম করেনি। দলটির অন্যতম স্ট্রাইকার কিম কং ইয়ং একাই ৯ গোল করে বাছাইয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তার সমান ৯ গোল করেছিলেন নেপালের সাবিত্রা ভান্ডারি।
উজবেকিস্তান
বিশ্ব র্যাংকিংয়ে উজবেকিস্তানের অবস্থান ৫১তম। তাদের বিপক্ষে ৯ মার্চ পার্থে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এখনো বিশ্বকাপে নাম লেখাতে না পারলেও মধ্য এশিয়ার দলটি পাঁচবার এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলেছে। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত হওয়া পাঁচ আসরেই অবশ্য তাদের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল। এরপর টানা ৬ আসরে মূল পর্বে আসতে পারেনি উজবেকিস্তান। এবার বাছাইয়ে অবশ্য তারা এফ গ্রুপের সেরা হয়ে মূল পর্বে আসে। যদিও তাদের সেরা হওয়ার পথটা সহজ ছিল না। এই গ্রুপে তাদের জোর প্রতিপক্ষ ছিল নেপাল। গ্রুপের প্রথম দুটি করে ম্যাচ উজবেকিস্তান ও নেপাল জিতে ৫ জুলাই খেলেছিল অলিখিত ফাইনাল। সেই ম্যাচে নির্ধারিত ৯০ মিনিট ৩-৩ ড্র থাকে। এরপর গোল গড়েও সমতা থাকলে ভাগ্য গড়ায় টাইব্রেকারে। ভাগ্য পরীক্ষায় অবশ্য স্বাগতিক উজবেকিস্তান জিতেছে ৪-২ ব্যবধানে। নেপালকে কাঁদিয়ে মূল পর্বে তারা ফিরেছে পাক্কা ২২ বছর পর। তাদের বিপক্ষেই বাংলাদেশ ভালো কিছুর আশা করতে পারে।
