ভয়-আতঙ্কে থাকা শিক্ষার্থী অভিভাবকদের কাউন্সেলিং

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধদের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো আইসিইউতে রয়েছে তিনজন। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও কর্মকর্তারা আতঙ্কে রয়েছেন। তাই তাদের মানসিক অবস্থা থেকে স্বাভাবিক হতে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিমানবাহিনী ও ব্র্যাক বিশেষ কাউন্সেলিং সেবা চালু করেছে। গত সোমবার থেকে তাদের কাউন্সেলিং করানো হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্কোয়াড্রন লিডার ওয়ালিল্লাহিল বলেন, বিমানবাহিনীর অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। সেদিন রোগীর সংখ্যা ছিল ১১৯ জন। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত আমাদের চিকিৎসাসেবা চলবে। এ কাউন্সেলিং ইউনিটে প্রশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ কাউন্সেলররা (পরামর্শদাতা) সেবা দিচ্ছেন।

বাপ্পী নামে এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে। মেয়েকে কাউন্সেলিং করাতে এনেছেন। তার মেয়ে বিমানের শব্দ শুনলে ভয় পাচ্ছে। রাতে ভালোমতো ঘুমাতেও পারছে না। রিয়া নামে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে, সেদিনের দৃশ্য চোখের সামনে দেখার পর কোনো কিছুই ভালো লাগছে না। আমার কাছের কয়েকজন পরিচিত মারা যাওয়ায় ঘুমাতেও পারছি না।

বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস শুরু আরও এক দফা পিছিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ছুটি বাড়িয়ে আগামী ২ আগস্ট (শনিবার) পর্যন্ত সব ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের সুরক্ষা ও মানসিক স্থিতি পুনঃস্থাপনই মূল লক্ষ্য। তাই আবার ছুটি বাড়ানো হয়েছে। তবে ছুটির মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু থাকবে। এ ছাড়া এই ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল জরুরি ভিত্তিতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন। হাসপাতালটির পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় বিশেষ কমিটি গঠন, আউটডোর সেল চালু, হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে বেড সংরক্ষণ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে আউটরিচ সেবা চালু এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাইকিয়াট্রিস্টসের (বিএসপি) সঙ্গে সমন্বয়ে হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। হটলাইন নম্বরগুলো হচ্ছে সকাল ১০টা-দুপুর ২টা : ০১৮৩৫১৫৪৩৪১/০১৮৩৫১৫৫৫২১, দুপুর ২টা-সন্ধ্যা ৬টা : ০১৮৩৫১৫৩২৬২/০১৮৩৫১৫৪৩৪০, সন্ধ্যা ৬টা-রাত ১০টা : ০১৮৩৫১৫৩০০৫/০১৮৩৫১৫৬২৬২। তাছাড়া ২৪ ঘণ্টা জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে রোগী ভর্তি হয়ে সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়া সোমবার দুপুর ১২টায় ‘শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে’ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বয় সভা হয়। সভায় দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং গতকাল একটি খসড়া কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আজ চূড়ান্ত করা হবে।

আইসিইউতে ৩ জন : বিমান দুর্ঘটনায় দগ্ধদের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। এখনো আইসিইউতে রয়েছে তিনজন। গতকাল দুপুর ২টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, এখন ৩৩ জন রোগী এখানে ভর্তি রয়েছে। তিনজন গুরুতর অবস্থায় আইসিইউতে রয়েছে। তাদের চেয়ে একটু কম গুরুতর অর্থাৎ সিভিয়ার ক্যাটাগরিতে রয়েছে আটজন। ১৯ জন কেবিনে ও বাকিরা অন্যান্য ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে। তবে সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত তাদের সবার অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি বলেন, মঙ্গলবার কাউকে ছুটি দেওয়া হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে কয়েকজনকে ছাড়পত্র দেওয়া হবে। দগ্ধ সব রোগীকে ফিজিক্যাল ইনজুরির চিকিৎসার সঙ্গে মানসিক চিকিৎসার গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে তারা পরবর্তীকালে ফলোআপ চিকিৎসার জন্য আসবে। তাদের অপারেশনও লাগতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত