পুঁজিবাজারে ৩৮৪ নতুন কোটিপতির হিসাব

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ০৭:১৭ এএম

বছরের ব্যবধানে দেশের পুঁজিবাজারে ৫০০ কোটি থেকে ১ কোটি টাকার বেশি আছে এমন (পোর্টফোলিও ভ্যালুসম্পন্ন) বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাবসংখ্যা বেড়েছে ৩৮৪টি। এর মধ্যে সব থেকে বেশি বেড়েছে ১ কোটি টাকার বেশি টাকাধারী বিও হিসাবসংখ্যা। ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরের হিসাবের ভিত্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে একই সময়ে ১ লাখের কম টাকার অতি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবসংখ্যা কমেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিএসইসির মুখপাত্র ও পরিচালক মো. আবুল কালাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

জানা গেছে, গত বছর ৩০ জুন ৫০০ কোটি টাকার বিও হিসাব (অ্যাকাউন্ট) সংখ্যা ছিল ৬৮টি, এ বছর ৩০ জুন পর্যন্ত এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০টিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় ৫০০ কোটি টাকার বেশি আছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা বেড়েছে দুটি। যথাক্রমে ১০০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা ছিল ৩২৫টি, যা এ বছর ২২টি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪৭টি দাঁড়িয়েছে। ৫০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা ছিল ৬৯৬টি, যা এ বছর ৩৭টি বেড়ে ৭৩৩টিতে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে ১ কোটি টাকার বেশি রয়েছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৯৯৩টি, যা এ বছর ৩২৩টি বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ হাজার ৩১৬টিতে দাঁড়িয়েছে।

একইভাবে ৫০ লাখ টাকার বেশি রয়েছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা ১ হাজার ৩১৮টি বেড়ে ২৪ হাজার ২২৫টিতে উন্নতি হয়েছে। ১০ লাখ টাকার বেশি রয়েছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা ৬ হাজার ৪৬২টি বেড়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৮৩৩টিতে উঠেছে। ১ লাখ টাকার বেশি রয়েছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা ৭৯১টি বেড়ে ৩ লাখ ৯০ হাজার ৩৮৫টিতে উঠেছে।

অন্যদিকে একই সময়ে ১০ কোটি টাকার বেশি রয়েছে এমন দুটি বিও হিসাবসংখ্যা কমে ২ হাজার ৮৯১টিতে এসেছে। ২০২৪-এর জুন থেকে ২০২৫-এর জুন পর্যন্ত ১ লাখ টাকার কম আছে এমন বিও হিসাবসংখ্যা সবচেয়ে বেশি কমেছে। গত এক বছরে এমন বিও হিসাবসংখ্যা কমেছে ৮৪ হাজার ৪০৯টি। ২০২৪-এর জুনে এ ধরনের বিও হিসাবসংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৬ হাজার ১৫৭টি, যা এ বছর ৩০ জুন ৮ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮টি নেমে এসেছে।

বিএসইসির মুখপাত্র বলেছেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা অথবা বিও হিসাবের সংখ্যা কিংবা বিনিয়োগ কমছে এমন বক্তব্য সাম্প্রতিককালে পরিলক্ষিত হয়েছে। কিন্তু বিষয়টি মূলত সম্পূর্ণ সত্য নয়। মূলত বিগত বছরের তুলনায় পুঁজিবাজারে বৃহৎ বিনিয়োগকারী (৫০ কোটি থেকে ৫০০ কোটি টাকা এবং তদূর্ধ্ব পোর্টফোলিও ভ্যালুসম্পন্ন)-এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি বিগত বছরের তুলনায় মাঝারি বিনিয়োগকারী (৫০ লাখের ঊর্ধ্বে ও ৫০ কোটি টাকার নিম্নের পোর্টফোলিওর ভ্যালুসম্পন্ন) সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিগত বছরের তুলনায় ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর (১ লাখের ঊর্ধ্বে ও ৫০ লাখ টাকার নিম্নের পোর্টফোলিও ভ্যালুসম্পন্ন) সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় অতি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর (১ লাখ টাকার নিম্নের পোর্টফোলিও ভ্যালুসম্পন্ন) সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত