একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদন্ডের রায় থেকে খালাস পেয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মো. মোবারক হোসেন। দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করে গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগ এ রায় দেয়। সর্বোচ্চ আদালত ১০ বছরের বেশি সময় আগে মোবারককে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদন্ডের রায় বাতিল ঘোষণা করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন মোবারক। স্বাধীনতার পর জামায়াতের ইউনিয়ন পর্যায়ে রুকন হন তিনি। পরে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে তিনি বহিষ্কৃত হন। ২০১৪ সালের ২৪ নভেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোবারককে মৃত্যুদন্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। ৩ নম্বর অভিযোগে তাকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ। অন্য তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়। দ-াদেশের বিরুদ্ধে একই বছরের ১৮ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করেন মোবারক। গত ৮ জুলাই তার আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। গত ২২ জুলাই শুনানি শেষে ৩০ জুলাই (গতকাল) রায়ের জন্য দিন ধার্য করে আদালত। এর ধারাবাহিকতায় এ রায় হয়। মোবারকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও ইমরান এ সিদ্দিক। অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান সাংবাদিকদের বলেন, মোবারকের বিরুদ্ধে ১ নম্বর অভিযোগে ৩৩ জনকে ধরে নিয়ে খুন করার অভিযোগে ডেথ সেন্টেন্স (মৃত্যুদন্ড) দেওয়া হয়েছিল। ৩ নম্বর অভিযোগে একজনকে খুন করার অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজা হয়েছিল। আজ (গতকাল) দুটি অভিযোগ থেকেই তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
×
