অফিসিয়াল ঘোষণা এসেছে গত সপ্তাহে, আর ভিসার কাগজপত্র চূড়ান্ত হয়েছে ম্যাচের কয়েক ঘণ্টা আগে। এমন অবস্থায় বুধবার রাতে লিগস কাপের ম্যাচে আটলাসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির একাদশে সরাসরি জায়গা করে নেন রদ্রিগো ডি পল। ৯০ মিনিট মাঠে থেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন, কেন তাকে লিওনেল মেসির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘সহচর’ বলা হয়।
এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডারের উপস্থিতিই যেন ইন্টার মায়ামির মধ্যমাঠে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। ম্যাচটিতে তার পাসের সংখ্যা ছিল ৫১টি—দলে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, কেবল জর্দি আলবার (৫৩) পিছনে। বাসকেটস যেখানে পাস দিয়েছেন মাত্র ২৬টি, সেখানে দি পলের দাপট যেন স্পষ্টই বোঝা গেছে।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে মেসির ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত হলেও, ইন্টার মায়ামিতে দি পলের ভূমিকা আরও সৃজনশীল। দ্বিতীয়ার্ধে একাধিকবার মেসিকে এমন জায়গায় বল দিয়েছেন, যেখান থেকে মেসি সরাসরি আক্রমণ গড়েছেন এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ছিন্নভিন্ন করেছেন। সরাসরি গোল করানোর সুযোগ তৈরি না করলেও, বল পরিবহনে তার ভূমিকা ছিল মুখ্য।
ম্যাচ শেষে মেসিও বলেন, 'অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স, পুরো ম্যাচে সে যেন সব দৌড়টাই নিজে করেছে।' শুধু গোল নয়, আক্রমণ গঠনের প্রাথমিক ধাপে দি পলের গুরুত্ব এখন থেকেই চোখে পড়ছে।
মায়ামি কোচ জাভিয়ের মাসচেরানোর পছন্দের ৪-৪-২ ফর্মেশনে দি পল জায়গা নেন বাসকেটসের পাশে। তবে দ্বিতীয়ার্ধে তিনি চলে যান তুলাসকো সেগোভিয়ার জায়গায়, যেখানে ফেদেরিকো রেডোন্ডো আসেন মাঝমাঠে। এ থেকে ধারণা করা যায়, রোটেশনের প্রয়োজন হলেও দি পল মাঠে থাকবেন—শুধু অবস্থান বদলাবে।
তার ফিটনেস ও গতি মায়ামির মধ্যমাঠে কিছুটা প্রাণ সঞ্চার করেছে, তবে ৮০তম মিনিটে আটলাসের সমতা সূচক গোলে তিনিও ছিলেন রক্ষণে দায়ী। ফিজিক্যালি শক্ত দলগুলোর কাছে দ্বিতীয়ার্ধে কাবু হওয়ার যে প্রবণতা মায়ামির আছে, তা এক ম্যাচেই বদলে যাবে না। তবে শুরুতেই প্রতিপক্ষকে চেপে ধরতে পারার ক্ষমতা এখন আরও বেড়েছে।
এমনটা ভেবে নেওয়াই যেত যে, বয়সী ভেটারানদের বিশ্রাম দিতে এনে রোটেশন বাড়াবেন মাসচেরানো। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন—দি পলের আগমনে বরং রোটেশনের সুযোগ কমে যাচ্ছে। ম্যাচের পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন তিনি, যার ফলে বোঝা যাচ্ছে—তাঁর জন্য আলাদা ছাড় নেই, এবং প্রতিদিনই শুরুর একাদশে তার নাম থাকাটা স্বাভাবিক বিষয় হতে চলেছে।
তবে এখানেই রয়েছে একটি প্রশ্ন—ডি পলের আগমনে ইয়ানিক ব্রাইট, ফেদেরিকো রেডোন্ডো কিংবা বেঞ্জামিন ক্রেমাসচির মতো উঠতি মিডফিল্ডাররা কোথায় দাঁড়াবে?
রদ্রিগো ডি পল মাঠে নামার আগেই ছিলেন ‘মেসির দেহরক্ষী’। এখন মায়ামিতেও সেটা বাস্তব রূপ পাচ্ছে। তার উপস্থিতি শুধু মেসির ওপর চাপ কমাবে না, বরং ইন্টার মায়ামিকে একটি আরও সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। তবে এক ম্যাচেই সব কিছু বিচার করা না গেলেও, শুরুটা যেন আশাব্যঞ্জক। এবং এই শুরুর নাম রদ্রিগো ডি পল।
প্রীতি ম্যাচেও গোল করে রোনালদো বুঝিয়ে দিলেন আজও তিনি ক্ষুধার্থ
মেসির জাদুতে নাটকীয় জয়, অভিষেকেই আলো ছড়ালেন 'দেহরক্ষী'