সড়ক সংস্কারে বেড়েছে দুর্ভোগ!

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৫, ০৬:৩৫ এএম

দুর্ভোগ কমাতে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয় খুলনার কৈয়াবাজার থেকে রায়েলমহল সøুইসগেট পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার বেহাল সড়ক। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেছেন, সংস্কারকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বেহাল হয়ে পড়েছে সড়কটি। সড়ক জুড়েই তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও ছোট-বড় গর্ত। কোথাও কোথাও বিটুমিন সরে গিয়ে হয়ে পড়েছে এবড়োথেবড়ো। ফলে ফের দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ, চালক ও পথচারীরা। তবে এলজিইডি বলছে, অতিরিক্ত লোডের গাড়ি চলাচল করায় সড়ক টেকেনি।

খুলনা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের সংযোগ সড়ক কৈয়াবাজার থেকে খুলনা শহরের রায়েলমহল সøুইসগেট পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার। সংস্কারের অভাবে সড়কটি দীর্ঘ বছর বেহাল হয়ে পড়ে। তবে ভোগান্তি কমাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম দফায় রায়েলমহল সøুইসগেট থেকে কৈয়াবাজার অভিমুখে ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৬ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর ট্রেডার্স। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার পর এক বছর পার না হতেই বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। চলতি বর্ষা মৌসুমে গর্তের সংখ্যা বেড়েছে, বেড়েছে গর্তের আয়তনও।

এরপর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাকি সড়কের মধ্যে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হয়। ৩ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার ২৯১ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজটি করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোহাম্মদ ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স। তবে এ অংশটুকুও সংস্কারের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে অসংখ্য ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বিটুমিন উঠে সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।  সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে বাকি ৫২৫ মিটার সড়ক সংস্কার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শওকত হোসেন। কিন্তু সংস্কারের মাত্র দুই মাসে পুরো অংশেই পুকুরের মতো বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও বিটুমিন সরে গিয়ে দলা হয়ে এবড়োথেবড়ো হয়ে পড়েছে।

সংস্কারব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সড়কটি ৩ দশমিক ৭ মিটার থেকে ৫ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত চওড়া। তিন ভাগে সড়কটি সংস্কারে খরচ হয়েছে ১১ কোটি ১৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে গড় হিসাবে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এত টাকা ব্যয় হওয়ার পরও দ্রুত সময়ে সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে সড়কের পাশে মোটরসাইকেল গ্যারেজ মালিক বিল্টু ও আমজাদ হোসেনসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করে দেশ রূপান্তরকে জানান, বিটুমিন মানসম্মত ছিল না। এ ছাড়া পাথরের সঙ্গে বিটুমিন বেশি তরল করে বেশি জায়গায় কার্পেটিং করা হয়েছে। পাথরে বিটুমিনের পরিবর্তে প্রচুর পরিমাণ পোড়া মবিলও ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে সড়কটির পিঠ উঁচু করা হয়নি। কোথাও উঁচু আবার কোথাও নিচু রয়েছে। নিচু স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে। এসব কারণেই মূলত দ্রুত সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। তবে চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বেশি খারাপ হয়ে যাওয়া অংশ ইতিমধ্যে কয়েক দফায় মেরামতও করা হয়েছে। তবু টিকছে না।

সড়কটির সিংহভাগ অংশ পড়েছে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নে। এ প্রসঙ্গে গুটুদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ তুহিনুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, সড়কটি সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার হয়েছে। আগের পুরনো পিচ গাড়ি দিয়ে চাষের মতো করে খোঁড়া হয়। তার ওপর নামমাত্র খোয়া ও বালুর সংমিশ্রণের মেকাডাম করা হয়। এরপর বিটুমিন দিয়ে কার্পেটিং করা হয়েছে। তবে বিটুমিনের মানও ভালো না। অন্যত্র থেকে বিটুমিন প্রস্তুত করে সড়ক কার্পেটিং করা হয়। পুরুত্বও কম দেওয়া হয়েছে। সে সময় প্রতিবাদ করলেও ঠিকাদার ও প্রকৌশলী কেউ কথা শোনেনি।

এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, অতিরিক্ত লোডের গাড়ি চলাচল করায় সড়ক টেকেনি। এরপরও দ্রুত নষ্ট হওয়ার কারণ নির্ণয় করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে করণীয় বিষয়ও চিন্তা করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত