এন্ডোমেট্রিয়াম কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির ফলে জরায়ুর ক্যানসার হয়।
ঝুঁকিতে কারা?
বয়স ৬০ বা তদূর্ধ্ব বয়সের নারীদের হয়, যাদের মেনোপজ হয়ে গেছে। রিপ্রোডাকটিভ বয়সে পলিস্পিটিক ওভারিয়ান সিনড্রোম রোগে ভুগলে। অনিয়মিত মাসিক হলে। ৪০ বছর বয়সের পর পিরিয়ডে অনেক বেশি রক্তক্ষরণ হলে। বন্ধ্যত্ব থাকলে। ডিএমআইএইচটিএন থাকলে। অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা হলে। ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস
থাকলে যেমন (কোলন, ওভারিয়ান) ক্যানসার ও লান ক্যানসার হলে। ইস্ট্রোজেন হরমোন থেরাপি নিলে। ঞধসড়ীরভবহ খেলে অর্থাৎ ব্রেস্ট ক্যানসার হলে এটা খেতে হয়। আগে কোনো ক্যানসারের জন্য আরটি নিলে। কম বয়সে মাসিক শুরু হলে ও দেরিতে মেনোপজ হলে।
লক্ষণ
মেনোপজের পর ভ্যাজাইনাল ব্লিডিং হলে। দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব গেলে (মেনোপজের পর)। নিচের পেটে ব্যথা হলো। ওপরে উল্লিখিত ঝুঁকিগুলো থাকলেও এমন হতে পারে।
চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে অনেক ক্ষেত্রেই জরায়ুমুখের ক্যানসারের চিকিৎসা রেডিওথেরাপির মাধ্যমে করা সম্ভব। তবে যদি ক্যানসার ছড়িয়ে যায় সেক্ষেত্রে রেডিওথেরাপির পাশাপাশি কেমোথেরাপি যোগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। বর্তমানে ক্যানসারের পর্যায় বা স্টেজ নিশ্চিত করতে ‘পেট সিটি স্ক্যান’ বা ‘এমআরআই স্ক্যান’ পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের তুলনায় পেট সিটি স্ক্যান এ ধরনের লিম্ফ নোড খুঁজে বের করতে বেশ কার্যকরী। সেক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর পূর্বে পেট সিটি স্ক্যান করতে পারলে ক্যানসারের পর্যায় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব এবং রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট ওই রোগীর চিকিৎসার ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
আইএমআরটির মতো আধুনিক রেডিয়েশন থেরাপি। এ ছাড়াও অনেক সময় পেট সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে জরায়ুমুখের ক্যানসার শরীরের অন্যান্য দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়লে নির্ণয় করা যায়। ক্লিনিক্যাল তথ্যের মাধ্যমে সার্ভিক্যাল ক্যানসারের স্টেজিং ও রেডিওথেরাপি পরিকল্পনা করা হয়। টিউমারের স্থানীয় সম্প্রসারণ বিশেষ করে এর আকার, প্যারামেট্রিয়াম জড়িত কি না, পেলভিক সাইড ওয়ালের অবস্থা ইত্যাদি শুধু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে এমআরআই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। এমআরআইর মাধ্যমে টিউমার কতটুকু বিস্তৃতি লাভ করেছে ও চিকিৎসায় কতটুকু সুফল মিলছে সে সম্পর্কেও ভালো ধারণা পাওয়া যায়। পেলভিক রেডিয়েশনের পরে সিটি স্ক্যান ও অ্যানেস্থেশিয়ার অধীনে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা, উভয়ের তুলনায় এমআরআইর মাধ্যমে অবশিষ্ট টিউমারের ব্যাপারে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া প্রচলিত ব্র্যাকিথেরাপির তুলনায় এমআরআই-ভিত্তিক ব্র্যাকিথেরাপির মাধ্যমে টিউমারে উচ্চমাত্রার রেডিয়েশন প্রদান সম্ভব। পাশাপাশি মলদ্বার ও মূত্রাশয়ের মতো রেডিওসেনসিটিভ অঙ্গকে তুলনামূলক বেশি সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
অনেক রোগীকে ইনটেনসিটি-মডুলেটেড রেডিয়েশন থেরাপি নামক পদ্ধতিতে চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। আইএমআরটি হলো এক প্রকার ‘থ্রি ডাইমেনসনাল’ রেডিয়েশন, যা নিরাপদে ও ব্যথাহীনভাবে একটি টিউমারে সুনির্দিষ্ট রেডিয়েশন ডোজ সরবরাহ করে। কিন্তু এই পন্থা অবলম্বনে আশপাশের স্বাভাবিক টিস্যুতে ডোজ অনেক কমে যায়। এর জন্য সাধারণত চার থেকে ছয় সপ্তাহ চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।
