সাত বছরেও বাদী হতে পারেনি পরিবারের কেউ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৭ এএম

২০১৭ সালে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করা হয় ময়মনসিংহের ছাত্রলীগ নেতা শাওনকে। সাত বছর পার হলেও সেই হত্যা মামলার বাদী হতে পারেননি নিহতের পরিবারের কেউ। পুলিশ বাদী হয়ে তাদের মতোই করেই লিখেছিল মামলার এজাহার। এরপর মনগড়া চার্জশিট দেওয়ায় আর বিচার পাননি শাওনের পরিবার।

চার্জশিটে বলা হয়, ‘ভুল করে পিস্তল থেকে গুলি বের হয়ে মৃত্যু হয় শাওনের’। এখন গুঞ্জন উঠেছে, শাওন হত্যার সেই মামলার ফাইলটি থানা থেকেই গায়েব হয়ে গেছে। অদৃশ্য এক শক্তি পুরো মামলাটিকে শেষ করতে বিপুল টাকা খরচ করে গায়েব করে দেয় শাওন হত্যার ফাইল। 

নিহত শাওনের বোন ফ্লোরা বলেন, শাওন হত্যা মামলার বাদী হওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ করেছেন পরিবারের প্রতিটি সদস্য। কিন্তু অদৃশ্য কারণে বারবারই তাদের বলা হয়েছে. ‘যেহেতু পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে, সেহেতু আপনাদের বাদী হওয়ার প্রয়োজন নেই। যার কারণে গত সাত বছরে দৌড়াদৌড়ি করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা।

জানা গেছে, শাওন হত্যার পর লাশ দাফন করা হলেও পরবর্তী সময়ে সেই লাশ আবার কবর থেকে তুলে পোস্টমর্টেম করা হয়। শাওন হত্যার পেছনে থাকা সেই অদৃশ্য শক্তি ছিল ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও ত্রিশাল উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরি কমিটির সদস্য আমিনুল হক শামীম। এ ছাড়া আমিনুল হক ময়মনসিংহ পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং ঢাকা জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সহসভাপতি। আমিনুল এফবিসিসিআইয়ের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ময়মনসিংহ চেম্বার অব কমার্সেরও বর্তমান সভাপতিও। তার ছোট ভাই একরামুল হক টিটু ময়মনসিংহ পৌরসভায় প্রথমে মেয়র এবং পরে সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগের মেয়র ছিলেন। দলীয় এবং পারিবারিক এমন প্রভাব খাটিয়ে কৌশলে এসপি অফিস থেকে মামলার সেই ফাইল গায়েব করিয়েছেন বলেও অভিযোগ ওঠে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত