ড. মঈন খান বললেন

প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য অন্তরের পরিবর্তন দরকার

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, ‘কসমেটিক পরিবর্তন দিয়ে বাংলাদেশের আঠারো কোটি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়। প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রথমে মানুষের অন্তরের পরিবর্তন দরকার।’ গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজনে ‘ফিরে দেখা রক্তঝরা জুলাই-আগস্ট প্রত্যাশা আর প্রাপ্তি’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মঈন খান এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, ‘বলা হচ্ছে সংবিধানের কিছু পরিবর্তন হবে, কিন্তু আমি বলব, পুরো সংবিধান পাল্টে দিলেও দেশের জনগণের অন্তরের পরিবর্তন না হলে কোনো লাভ হবে না। আমরা পরিবর্তন চাই, কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, পরিবর্তন কেবল পরিবর্তনের জন্য নয়। কোনটা বিভেদ, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।’ গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে ১৬শ হত্যাকাণ্ডের জন্য ১৬শ মামলা হওয়া উচিত ছিল।’

এ প্রসঙ্গে মঈন খান বলেন, ‘আমি আইনজ্ঞ না হয়েও বলছি, যদি ১৬শ মামলা হয়, তাহলে আধুনিক বিচারব্যবস্থায় এসব মামলার বিচার হতে ১৬শ বছর লাগবে। বরং বাংলাদেশে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, তার বিচারের জন্য একটি মামলাই যথেষ্ট। আর কোনো সৎ সাহসী সরকার হলে ১৬ ঘণ্টায় এই বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব।’

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পার হলেও মানুষের আকাক্সক্ষার কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে সে প্রশ্ন রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা সংস্কারের কথা বলছি, আমি প্রশ্ন করতে চাই, যে প্রত্যাশা নিয়ে চব্বিশের জুলাই-আগস্ট এসেছিল, আজকের জুলাই-আগস্টে তার কতটা পূরণ হয়েছে? দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের সময়ে যে আকাক্সক্ষা নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছিলাম, সেটা কি পূরণ হয়েছে? কেন আমাদের উত্তরণ হয়নি, সেই প্রশ্ন করতে হবে।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের কথা সবাই বললেও কেউ শহীদদের ধারণ করছে না মন্তব্য করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘প্রত্যেকের মনে রাখা দরকার, আবেগের ওপর রাজনীতি বেশি দিন টেকে না। সব মহলে শুধু ক্রেডিটবাজি চলছে। বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দরকার। জুলাই সনদ দরকার। কিন্তু সবাইকে বাদ দিয়ে যদি মুষ্টিমেয় কাউকে গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তাহলে যথাযথ ন্যায়বিচার করা হবে না।’

ফ্যাসিবাদী সময়ের নির্যাতন দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সুসংগঠিত করেছিল উল্লেখ করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘যদিও জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা সেই কঠিন সময়ের কথা ভুলে গিয়েছি। এখন সবাই মাস্টারমাইন্ড হতে চায়। তাই বলতে চাই, ইতিহাস থেকে আমাদের বুঝতে হবে। যারা মাস্টারমাইন্ড হওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন, ভবিষ্যতে যেন আপনাদের ভিলেন হতে না হয়।’

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘কারা সরকারে যুক্ত হবেন এবং কত দিন মেয়াদের হবে, তা আমরা ঠিক করে দিইনি। যার ফলে এক বছর পরেও আমরা চিন্তায় আছি, আদৌ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে কি না।’

নতুন শুল্কবাণিজ্য চুক্তিকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ জন্য কী ধরনের গোপন চুক্তি রয়েছে, সেটা আমরা জানতে পারছি না। সরকারের উচিত তা জনসম্মুখে প্রকাশ করা।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মীর মোফাজ্জল হোসেন প্রমুখ।

এদিকে গতকাল তেজগাঁওয়ে এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির উদ্যোগে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য ও জুলাই চেতনা সমুন্নত রাখতে পারবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বীর সেনানীদের সবাইকে আমাদের ধারণ করতে হবে। এরাই রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে আমাদের দীর্ঘদিনের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। দুর্নীতি-অনাচার থেকে যদি আমরা জাতিকে রক্ষা করতে না পারি, তাহলে আমাদের সব অর্জন ব্যর্থ হয়ে যাবে। এ জন্য অবশ্যই ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য প্রয়োজন। যে ঐক্য জুলাইয়ের চেতনাকে সমুন্নত রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব যতই থাকুক না কেন এরা কেউই অগণতান্ত্রিক দল নয়, সবাই গণতান্ত্রিক দল। কাজেই নির্বাচনের বিষয়ে কারও কোনো বাধা আছে বলে আমি মনে করি না। নির্বাচনের প্রস্তুতি ও জনগণের আকাক্সক্ষা সবই নির্বাচনের পক্ষে আছে। তাই আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন চাই।’

এতে তেজগাঁও কলেজের বিতার্কিকদের পরাজিত করে ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিকগণ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত