৫০০ বছর পর জেগে উঠল রাশিয়ার ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩২ এএম

রাশিয়ার ফার ইস্টে কামচাটকা উপদ্বীপে গত সপ্তাহের শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এবার সেখানে ৫০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো জেগে উঠেছে আগ্নেয়গিরি। গত সপ্তাহের ভূমিকম্পের সঙ্গে আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাতের সম্পর্ক থাকতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কামচাটকার ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরি গত রাতে ছয় কিলোমিটার (৩ দশমিক ৭ মাইল) উচ্চতা পর্যন্ত ছাই আকাশে ছুড়ে দেয়। তবে আশপাশের জনবহুল এলাকাগুলোর জন্য এখনো কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছে রাশিয়ার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়।

এই অগ্ন্যুৎপাতের কয়েক ঘণ্টা পর আবার একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয়েছে রাশিয়ার। এর প্রভাবে কামচাটকা উপদ্বীপের তিনটি এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। গত সপ্তাহে আঘাত হানা ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের সঙ্গে এ দুটি ঘটনারই যোগসূত্র থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। গত সপ্তাহের ভূমিকম্পের প্রভাবে ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া ও চিলিসহ দূরের বহু দেশে সুনামি সতর্কতা জারি হয়েছিল। রাশিয়ার ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, গত বুধবারের ভূমিকম্পের পর কয়েক সপ্তাহ ধরে শক্তিশালী পরাঘাত হতে পারে। ওই ভূমিকম্প ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী ভূকম্পন ছিল, যার ফলে কয়েক লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

কামচাটকা ‘ভলকানিক ইরাপশন রেসপন্স টিম’-এর প্রধান ওলগা গিরিনা জানান, ক্রাশেনিনিকভ আগ্নেয়গিরির সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছিল ১৫ শতকে। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ-কে তিনি বলেন, এবারকার অগ্ন্যুৎপাতের পেছনেও সম্ভবত গত সপ্তাহের ৮ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রভাব রয়েছে। কামচাটকা উপদ্বীপটি প্রত্যন্ত হলেও এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থিত, যেখানে অনেক বেশি ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে। জরুরি অবস্থা মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে এক পোস্টে জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরি থেকে লাভা প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। এই লাভার পথে কোনো জনবসতিপূর্ণ এলাকা নেই এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোনো ছাই পড়ার ঘটনাও রেকর্ড করা হয়নি। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরিটিকে বিমান চলাচলের ‘কমলা’ ঝুঁকি কোড দেওয়া হয়েছে। যার অর্থ এ অঞ্চলে বিমান চলাচল ব্যাহত হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত