এনসিপি নেতাদের কক্সবাজার ভ্রমণ নিয়ে আলোচনা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১৩ এএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ পাঁচ নেতাসহ ছয়জন হঠাৎ গতকাল মঙ্গলবার কক্সবাজারে এসেছেন। তারা বর্তমানে মেরিন ড্রাইভ সড়কের উখিয়ার ইনানীতে অবস্থিত হোটেল সি পার্ল বিচ রিসোর্টে অবস্থান করছেন। তাদের কক্সবাজারে আগমনকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠক করতেই এই ছয় নেতা কক্সবাজারে এসেছেন। আবার কেউ বলছেন, পিটার হাস নন, তবে বিদেশি কোনো দলের সঙ্গে তারা বৈঠক করছেন। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল কেউ এ বিষয়ে কথা বলেননি। আর দলটির নেতারা দাবি করেছেন, তারা কেবল বেড়াতে এসেছেন।

কক্সবাজারে আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিপির অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা ১ জুলাই থেকে টানা ৩৪ দিন পদযাত্রা করেছি। এতে আমরা কিছুটা ক্লান্ত। এই ক্লান্তিদূর করতেই কক্সবাজারে এসেছি।

কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষ, পুলিশ, হোটেল কর্র্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে দুই নারীসহ এনসিপির ছয় নেতা কক্সবাজারে আসেন। তারা ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহার না করে সাধারণ যাত্রীদের গেট দিয়ে বের হয়ে যান। তারা হলেনÑ মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা ও তার স্বামী দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মো. জসীম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গতকাল দুপুর ১২টার পর এনসিপির নেতারা ইনানীর হোটেল সি পার্লে প্রবেশ করেন। তবে তারা কতদিন থাকবেন, তা আমার জানা নেই।

সি পার্লের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, হোটেলের তিনটি কক্ষে এই ছয়জন অবস্থান করছেন। একটি কক্ষে হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, একটিতে সারজিস আলম ও তার স্ত্রী এবং অন্যটিতে তাসনিম জারা ও তার স্বামী খালেদ। তিনি জানান, পিটার হাস বা এ ধরনের কেউ তাদের হোটেলে আসেননি। হোটেলের আরেক কর্মকর্তা জানান, ৫১০১ থেকে ৫১০৩ নম্বর কক্ষে এই ছয়জন অবস্থান করছেন।

এনসিপির কক্সবাজার সমন্বয়ক সুজা উদ্দিন জানান, তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর আমন্ত্রণে তারা কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। এর বাইরে কিছুই নেই। ৫ আগস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি জনান, গতকালের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে এনসিপির পক্ষ থেকে দুজন সমন্বয়ককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা চেয়েছিলেন, এনসিপির সব সমন্বয়ক যেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন। তারা এ বিষয়ে চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। সম্ভবত এই কারণে মন কিছুটা বিমর্ষ থাকায় তারা হঠাৎ কক্সবাজারে চলে গেছেন। এদিকে, কক্সবাজার শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ইনানীর রয়েল টিউলিপে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। হোটেলের বাইরে উখিয়া বিএনপির নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনতা অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলছেন, ৫ আগস্টের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দিনে বিদেশিদের সঙ্গে গোপন বৈঠক রহস্যজনক। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তির বিশেষ দিনে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের হঠাৎ কক্সবাজারে আগমন এবং শহর থেকে ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থানের ঘটনা সন্দেহের উদ্রেক করেছে। এটি মানুষের মধ্যে নানা কৌতূহল সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে পিটার হাসের সঙ্গে তাদের বৈঠকের গুঞ্জন শুনে জনমনে সন্দেহ আরও বেড়েছে। তবে পিটার হাসের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি সন্দিহান। এ বিষয়ে তিনি তথ্য সংগ্রহ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পিটার হাস বর্তমানে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারী মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। এই কোম্পানির একটি অফিস মহেশখালীতে রয়েছে। এ কারণে তিনি প্রায়ই কক্সবাজারে আসেন।

এ বিষয়ে এনসিপির কক্সবাজার সমন্বয়ক সুজা উদ্দিন বলেন, পিটার হাসের কর্মস্থল মহেশখালী হওয়ায় তিনি প্রায়ই কক্সবাজারে আসেন, এটি সত্য। তবে এই মুহূর্তে তিনি কোথায় আছেন কক্সবাজারে নাকি মহেশখালীতে তা আমার জানা নেই।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফ উদ্দিন শাহিন বলেন, সি পার্ল হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গতকাল ওই হোটেলে মাত্র তিনজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন, যারা সবাই চীনের বাসিন্দা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত