চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অস্ত্রধারীদের গুলিতে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯ জনই প্রাণ হারান নগরের মুরাদপুর, বহদ্দারহাট ও আশপাশের এলাকায়। এসব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল একে-৪৭ রাইফেল, বিদেশি পিস্তল, শটগান, শাটারগান ও রিভলবার। ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে পুলিশ ৪৬ জন অস্ত্রধারীকে চিহ্নিত করলেও গ্রেপ্তার করেছে মাত্র ১৯ জনকে। ঘটনার এক বছর পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে শুধু দুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) জানায়, আন্দোলনের সময় হামলার ঘটনায় নগরের ১৬টি থানার মধ্যে ৮টিতে ৬৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে চান্দগাঁও থানার শহীদুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্ত শেষে গত ২৪ জুলাই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। ৬৩ মামলায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১০ জন গ্রেপ্তার হলেও অস্ত্রধারীদের মধ্যে মাত্র ১৯ জন ধরা পড়েছেন।
পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, চিহ্নিত ৪৬ অস্ত্রধারীর মধ্যে ১৯ জন গ্রেপ্তার হলেও মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা যায়নি। সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, ‘প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে অস্ত্রগুলো সন্ত্রাসীদের মধ্যে হাতবদল হওয়ায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পাঁচলাইশ থানা এলাকায় ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুক; চান্দগাঁওয়ে মো. তানভীর, হৃদয় চন্দ্র তরুয়া, সায়মন হোসেন; বহদ্দারহাটে মো. শহীদুল ইসলাম ও ফজলে রাব্বী; কোতোয়ালি থানায় কাউসার মাহমুদ, নিজাম উদ্দিন ও সাইফুল ইসলাম আরিফ; বাকলিয়ায় নুরুল আমিন এবং ডবলমুরিংয়ে মো. ইউসুফ ও মো. আলম। এর মধ্যে শহীদুল ইসলাম হত্যা মামলায় গত ২৪ জুলাই চার্জশিট জমা দেন চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. ফয়সাল। আগামী ২৫ আগস্ট এ মামলার শুনানি হবে। তবে এজাহারভুক্ত আসামি মো. জাফরের নাম চার্জশিটে বাদ দেওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, জাফর নগর যুবলীগের পরিচিত ক্যাডার। গণমাধ্যমে তার নাম উঠলেও চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
পুলিশের দাবি, জাফরের পিতা ও ঠিকানা অজ্ঞাত থাকায় নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিকানা পেলে তদন্ত করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছর গণঅভ্যুত্থানের সময় মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করে। গত ১৬ জুলাই মুরাদপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মো. দেলোয়ার, মিঠুন চক্রবর্তী, যুবলীগ নেতা মো. ফিরোজ, ছাত্রলীগ কর্মী এনএইচ মিঠু, হাবিবুর রহমান আহনাফ ও যুবলীগ কর্মী মো. জাফর গুলি চালান। ১৮ জুলাই বহদ্দারহাটে মহিউদ্দিন ফরহাদ, তৌহিদুল ইসলাম ফরিদ, মো. জামাল, ঋভু মজুমদার ও মো. জালাল ওরফে ড্রিল জালাল গুলিবর্ষণ করেন। গত ২২ নভেম্বর সাতক্ষীরার কমলনগর থেকে তৌহিদুল ইসলাম ফরিদকে গ্রেপ্তার করে চান্দগাঁও থানা পুলিশ। তিনি সাবেক কাউন্সিলর এসরারুল হকের অনুসারী।
পুলিশের উপকমিশনার (অপরাধ) রইছ উদ্দিন জানান, তৌহিদুল ১৮ জুলাই বহদ্দারহাটে শাটারগান দিয়ে ২৮টি গুলি ছোড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার শাটারগান উদ্ধার হয়নি। একইভাবে, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মিঠুন চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হলেও তার বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
