গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ধর্মীয় সভার নামে ২২ কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুই এমপিসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। দীর্ঘ পাঁচবছরে চার দফায় তদন্ত শেষে সম্প্রতি গাইবান্ধা সিনিয়র জজ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আগামী ১৩ আগস্ট অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির দিন ধায্য করা হয়েছে।
দায়ের করা মামলায় মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এরমধ্যে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলা থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান এবং পিআইওসহ ১০ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়। মামলায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে এজাহারনামীয় ৯ জন এবং তদন্তকালে আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকায় সাবেক দুইজন সাবেক এমপিসহ নতুন ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। গাইবান্ধার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল হালিম প্রামানিক আজ বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ২ হাজার ২৫৩টি ধর্মীয় অনুষ্ঠান, লিল্লাহ বোর্ডিং,শিশু সদন, অনাথ আশ্রমে আগত মুসুল্লিদের আহার্য বাবদ ৫ হাজার ৮২৩ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ আসে। কিন্তু গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের যোগসাজশে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর কাউন্সিলর এসব চাল আত্মসাৎ করেন। এ নিয়ে ২০২১ সালের ২৬ আগস্ট ১৯ জনের নামে দুদক রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ বাদী হয়ে মামলা করেন।
এজাহার থেকে বাদ দেওয়া আসামীরা হলেন- উপজেলার মহিমাগঞ্জ ইউপির তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ প্রধান, গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জহিরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের তৎকালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আকতারা বেগম রুপা, কামদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহেদ হোসেন চৌধুরী বাবলু, কাটাবাড়ির তৎকালীন রেজাউল করিম রফিক, তৎকালীন শাখাহারের তাহাজুল ইসলাম ভুট্টু, রাজাহারের তৎকালীন আব্দুল লতিফ সরকার, সাপমারার শাকিল আলম বুলবুল, দরবস্তের শরিফুল ইসলাম জর্জ, তালুককানুপুরের তৎকালীন আতিকুর রহমান আতিক, নাকাইয়ের তৎকালীন আব্দুল কাদের প্রধান, রাখালবুরুজের তৎকালীন শাহাদত হোসেন, ফুলবাড়ীর তৎকালীন আব্দুল মান্নান মাল্লা, গুমানীগঞ্জের তৎকালীন শরীফ মোস্তফা জগলুল রশিদ রিপন, কামারদহের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রতন, কাচাশহরের তৎকালীন মো. শাররফ হোসেন, শিবপুরের সেকেন্দার আলী মন্ডল, শালমারার তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আমির হোসেন শামিম ও গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর গোলাপী বেগম।
মামলা দায়েরের পর চার দফা তদন্ত শেষে প্রায় ৫ বছর পর সম্প্রতি এজাহার নামীয় ১০ জনকে বাদ দিয়ে আদালতে গোবিন্দগঞ্জের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ ও পলাশবাড়ি-সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক এমপি উম্মে কুলসুম স্মৃতিসহ ১৬ জনকে অর্ন্তভুক্ত করে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
এদিকে মামলার তদন্তকালে আত্মসাতের ঘটনায় জড়িত থাকায় সাবেক দুইজন এমপিসহ আরও ৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। তারা হলেন গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের আবুল কালাম আজাদ, গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের উম্মে কুলসুম, স্থানীটা খাদ্য ব্যবসায়ী ফয়জুল ইসলাম, সাবেক গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল আহাদ, গোলাপবাগ খাদ্য গুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক, কামদিয়া খাদ্য গুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেমন্ত কুমার বর্মণ এবং মহিমাগঞ্জ খাদ্য গুদামের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আরজুমান নাহার।
দুদকের তদন্তে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা জাতীয় সংসদ সদস্য পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ইউএনও ও পিআইপর ওপর প্রভাবখাটিয়ে তার অনুসারী ইউপি চেয়ারম্যানগন বর্নিত জিআর বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের নামে আত্মসাৎ করে।
এ ব্যাপারে মামলার বাদী দুর্নীতি দমন কমিশন রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সাবেক সহকারী পরিচালক বর্তমান প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. হাসাইন শরিফ বলেন, যাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে তারা ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় মর্মে কমিশনে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। এরপর মামলাটি চারদফায় তদন্ত করা হয়েছে। তদন্তে ১০ জনের বিরুদ্ধ আনিত অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এরপর কমিশন থেকে তাদর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
