বিছানার চাদর নিয়মিত পরিষ্কার করলেও মাসের পর মাস অপরিষ্কার থেকে যায় তোশক। কেবল রোদে বিছিয়ে রাখলেই হয় না, বেশ কয়েকটি পদ্ধতি মেনে তোশকের ডিপ ক্লিনিং করা প্রয়োজন, যাতে রোগব্যাধির সংক্রমণ না হয়। কীভাবে পরিষ্কার করবেন তোশক জেনে নিন। অপরিষ্কার তোশকে জীবাণুদের বাসস্থান তৈরি হতে সময় লাগে না। এর ফলে অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বছরে অন্তত দুবার ভালো করে বিছানার গদি পরিষ্কার করা উচিত। তার জন্য লন্ড্রিতে টাকা খরচ করতে হবে না। জেনে নিন ঘরেই তোশক পরিষ্কারের কৌশল।
ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা শুরু করুন। তোশকের কোণগুলো, ভেতরের সেলাই এবং ভাঁজের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিত হবে। এই জায়গাগুলোতেই সবচেয়ে বেশি ধুলো, চুল, ময়লা এবং জিনিসপত্রের টুকরো জমা হয়। ভ্যাকুয়াম যন্ত্র না থাকলে ঝাটা দিয়ে ভালো করে ঝেড়ে নিতে হবে। তোশকই কখনো কোনো দ্রবণে সম্পূর্ণ ভিজিয়ে রাখা উচিত নয়। এতে নষ্ট হয়ে যেতে পারে গদি। তাই ক্লিনজার স্প্রে করে পরিষ্কার করতে হবে।
পানি এবং ডিটারজেন্টের দ্রবণ
বাটিতে ১ চা চামচ ডিটারজেন্ট এবং ১ লিটার ঠা-া পানির দ্রবণ তৈরি করুন। ছোট গদির জন্য আধ লিটার নিতে পারেন। ফেনা না ওঠা পর্যন্ত নাড়িয়ে যেতে হবে চামচ দিয়ে। এবার পরিষ্কার কাপড় বা নরম ব্রাশ নিয়ে দ্রবণে ডুবিয়ে তোশকে বৃত্তাকার গতিতে জোরে জোরে ঘষতে হবে। শেষে পরিষ্কার স্যাঁতসেঁতে কাপড় দিয়ে অবশিষ্টাংশ অপসারণ করতে হবে। এবার রোদে, হাওয়ায় শুকানোর জন্য রেখে দিন তোশকটি।
বেকিং সোডা
তোশকের ওপর হালকা বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিন। এরপর অন্তত ৩০ মিনিট ধরে রেখে দিন। সম্ভব হলে ঘণ্টাখানেক সময় দিলে ভালো। রোদে বিছিয়ে রাখলে ভালো ফল পাবেন। কারণ রোদ ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে পারে। এবার শুকনো এবং পরিষ্কার একখানি কাপড় দিয়ে সোডা ঘষে মুছে ফেলুন। কাপড়ের বদলে নরম ব্রাশও ব্যবহার করতে পারেন।
সাদা ভিনিগার এবং বেকিং সোডা
বেকিং সোডা, সাদা ভিনিগার একটি বাটিতে মিশিয়ে নিতে হবে। সঙ্গে প্রয়োজন বেশ কয়েকটি তোয়ালে। তোশকের ওপর এই দুই উপকরণের মিশ্রণ ছড়িয়ে দিন। পুরোপুরিভাবে ঢেকে গেলে পরিষ্কার তোয়ালেগুলো বিছিয়ে দিতে হবে মিশ্রণের ওপর। ২-৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে তোয়ালেগুলো সরিয়ে গদিটি রোদে, বাতাসে শুকোতে দিন। এবার একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে নিন।
