শুল্ক ইস্যুতে ভূরাজনীতির ফাঁদে পা দিইনি: নিরাপত্তা উপদেষ্টা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৫, ১১:৪৭ পিএম

অন্তবর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, মার্কিন শুল্ক বিষয়ে তিনটি বিষয় সামনে রেখে কাজ করছি। এক্ষেত্রে তাদের অনেক অবলিগেশন ছিল । যার অনেকগুলো আমারা নিতে পারিনি। আমরা কোন ভূরাজনৈতিক ফাঁদে পা দিইনি।

গত জুন মাসে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লন্ডন সফরে শুল্ক বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে নিরাপত্তা উপদেষ্টার ৪৫ মিনিট আলাপ হয়েছে বলেও তিনি বক্তব্য দাবি করেন।

রোববার (১০ আগস্ট) রাতে গুলশান ক্লাবে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) আয়োজিত মার্কিন শুল্ক বিষয়ক এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এসময় অন্তবর্তীকালীন সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ডব্লিউটিও অনুবিভাগের প্রধান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদুল হাসান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, আমরা তিনটা প্রিন্সিপালে নেগোশিয়েট করেছি। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে , সেটি বাইলেটারাল এগ্রিমেন্ট। এটা যেকোনো সময় বাতিল যোগ্য। প্রথম আমরা নির্বাচিত সরকার নই। তাদের যেসব বিষয় রয়েছে পরবর্তী সরকার সেটি পরিবর্তন করতে পারবে। কারণ আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি, এমন একটা চুক্তি করেছি  যেটা বাতিলযোগ্য। কালকে যদি আমরা চুক্তির কোন একটি শত পুরণ করতে না পারি তাহলে তারা ৩৭ শতাংশ শুল্কে ফিরে যেতে পারবে। সেজন্য ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ থাকবে যাতে অর্জনটি বাতিল না হয়।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, মার্কিন শুল্ক ঘোষণার পরপরই সরকার দফায় দফায় সেদেশের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। আমরা পাশে ছিলাম। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটা সফলতা এসেছে। শুল্ক হ্রাসের পর ক্রেতাদের পক্ষ থেকে আমাদের সাথে যোগাযোগ বেড়েছে। এতে বুঝা যাচ্ছে, মার্কিন শুল্ক হ্রাস পোশাক খাতে ভালো ব্যবসার পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে।

শওকত আজিজ রাসেলের  বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে এবং অনেক মিটিং করেছে। এসব কাজে ব্যবসায়ীদের সাথে রাখছে। একটা নজিরবিহীন। বর্তমান সময়ে দেশে বিনিয়োগের ভালো সুযোগ থাকলেও বিগত সময়ে লুটপাটের কারণে বর্তমানে একটি প্রতিকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তবে সামনের দিকে ব্যবসায়ীদের প্রতি সরকারের আন্তরিক মনোভাব ঠিক থাকলে, সুনজর থাকলে আমরা আরও বিনিয়োগ করবো, আরও কর্মসংস্থান উপহার দিব। ব্যবসায় চ্যালেঞ্জ থাকবে, তা সরকার এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সফল সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব।

বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইউএস ট্যারিফ নিয়ে সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত টিমের প্রশংসা করে বলেন, বাণিজ্য উপদেষ্টার প্রতি পূর্ণ আস্থা ছিল এবং তাঁর নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে, ভারত যখন ট্রান্সশিপমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছিল, তখন বাণিজ্য উপদেষ্টার উদ্যোগে সিলেট বিমানবন্দর দিয়ে কার্গো ফ্লাইট চালু করার কথা তিনি উল্লেখ করেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত