গাজা সিটি দখলের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল রবিবার রাতে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি দাবি করেন গাজা দখল আমাদের উদ্দেশ্য নয়, সেখানে আমরা একটি বেসামরিক সরকার গঠন করতে চাই। যেটি হামাস ও ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট নয়। তবে গণমাধ্যমে দৃঢ়ভাবে নিজের এজেন্ডা জানালেও খোদ নিজ শহরেই নেতানিয়াহু ইসরায়েলিদের বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন। শনিবার রাতে তেল আবিবের রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো বিক্ষোভকারী। প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধ আরও বাড়াতে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন তারা। এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে অনাহারে আরও পাঁচ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন।
সম্প্রতি গাজায় অভিযান সম্প্রসারণ ও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের জন্য নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা। এতে নতুন পাঁচটি নীতি তুলে ধরেছেন নেতানিয়াহু। তিনি জানিয়েছেন, গাজার ৭৫ শতাংশ অঞ্চল এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। বাকি যে ২৫ শতাংশ রয়েছে সেখানে হামাসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। হামাসকে সরিয়ে দিতে এখন গাজা সিটি এবং শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে অভিযান চালাবেন তারা। নেতানিয়াহু বলেন, গাজার দখল আমাদের উদ্দেশ্য নয় বরং সেখানে আমরা একটি বেসামরিক সরকার গঠন করতে চাই। যেটি হামাস ও ফিলিস্তিন কর্র্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট নয়। গাজার বাকি ২৫ শতাংশ অংশে হামলা চালানোর আগে বেসামরিক মানুষদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য করিডর ও পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করার কথা জানিয়েছেন এই কট্টরপন্থি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য আমরা নিরাপদ করিডর এবং ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র ঠিক করে দেব।
তবে এই পরিকল্পনাকে দিয়ে ঘরে-বাইরে বিক্ষোভ উসকে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। গাজায় যুদ্ধ বন্ধে নেতানিয়াহুর ওপর চাপ বাড়াতে সম্প্রতি বিশ্ব জুড়ে বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনপন্থিরা। এমনকি নিজ শহরেও প্রতিবাদকারীদের তোপের মুখে পড়েছেন দখলদার নেতানিয়াহু। শনিবার রাতে তেল আবিবের রাস্তায় নেমে আসেন হাজারো বিক্ষোভকারী। প্রায় দুই বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধ আরও বাড়াতে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন তারা। এ সময় এই যুদ্ধের তাৎক্ষণিক অবসান এবং বন্দিদের মুক্তির দাবি জানান তারা। জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি যুদ্ধের তাৎক্ষণিক অবসান চায় যাতে গাজায় সশস্ত্র যোদ্ধাদের হাতে থাকা অবশিষ্ট ৫০ জন বন্দিকে মুক্ত করা যায়। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বিশ্বাস, প্রায় ২০ জন বন্দি এখনো জীবিত। যুদ্ধ সম্প্রসারণের ঘোষণা দেওয়ায় ইসরায়েলি সরকার দেশ-বিদেশে, এমনকি তাদের নিকটতম কিছু ইউরোপীয় মিত্রের কাছ থেকেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। ৬৯ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী অবসরপ্রাপ্ত রামি দার বলেন, নেতানিয়াহু সরকার উগ্রপন্থি। তারা দেশের স্বার্থবিরোধী কাজ করছে।
এদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে অনাহারে আরও পাঁচ ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ইসরায়েলি অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অনাহারে মৃত্যের সংখা দাঁড়াল ২১২ জনে, যার প্রায় অর্ধেকই শিশু। উড়োজাহাজ থেকে ফেলা ত্রাণের বাক্সের নিচে চাপা পড়ে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এছাড়াও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় আরও অন্তত ৫২ জন নিহত হয়েছেন।
