২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে ১৭ কেজি ওজন ঝরিয়েছিলেন পাকিস্তানের ইনজামাম উল হক। বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে রানেই ছিলেন ইনজামাম, টেস্ট ও ওয়ানডেতে করেছিলেন হাফসেঞ্চুরিও। বিশ্বকাপে ওজন ঝরিয়ে ছিপছিপে শরীর নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন, ৬ ম্যাচে করেছিলেন ১৯ রান আর তার সর্বোচ্চ ইনিংসটা ছিল ৬ রানের। এরপর ‘ইনজি’ নাকি আর ওজন কমানোর চেষ্টাই করেননি। হালফিলে ওজন কমিয়ে ছিপছিপে হয়ে গেছেন ভারতের সরফরাজ খান এবং পাকিস্তানের আজম খানও। তবে ফিটনেসই যে শেষ কথা নয়, সেটা বলেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ নাথান কেলিই।
রবিবার গুলিস্তানের জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিকস ট্র্যাকে দৌড়ে ফিটনেসের পরীক্ষা দিয়েছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। ছুটিতে থাকায় ছিলেন না লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। ছাড়া ‘এ’ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নুরুল হাসান সোহান, সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও অংশ নেননি। ১৬০০ মিটার দৌড়ে নাহিদ রানা ভালো করলেও আশাতীত টাইমিং করতে পারেননি শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদসহ কয়েকজন। তবে ফিটনেস পরীক্ষাই খেলোয়াড়দের মানদ- যাচাইয়ের শেষ কথা নয়, জানালেন কেলি, ‘উদাহারণ হিসেবে ধরুন, অনেক খেলোয়াড় হয়তো টাইম ট্রায়ালে ভালো করতে পারেনি। কিন্তু আপনারা দেখছেন না, তারা হয়তো স্ট্রেন্থ ওয়ার্কের ক্ষেত্রে জিমে সেরা। আমরা এটাতেই নজর দিচ্ছি। মূল বিষয় হচ্ছে, এটা বুঝতে পারা কোথায় তারা ভালো করছে, কোন জায়গায় আরও কাজ করতে হবে।’ খেলোয়াড়দের ফিটনেসের অবস্থা বুঝতে বিপ টেস্ট বা ইয়ো ইয়ো টেস্টের বদলে কেলি ব্যবহার করছেন টাইম ট্রায়াল পদ্ধতি, ‘এটার ফল নিয়ে কম বিতর্ক হয়। যখন আপনি ইয়ো-ইয়ো বা বিপ টেস্ট করান, কখনো কখনো খেলোয়াড়রা খুব অল্পের জন্য পিছিয়ে যায়, কিন্তু তখন তাদের থামিয়ে দিয়ে বলাটা কঠিন হয়ে যায় যে তোমার টেস্ট শেষ। টাইম ট্রায়ালে ভালো জিনিস হচ্ছে, সময় কখনো মিথ্যা বলে না। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, যারা ইয়ো ইয়ো বা বিপ টেস্টে পাস করে, তারা টাইম ট্রায়ালেও জেতে। যারা ওখানে ভালো না, তারা এখানেও ভালো না।’
ফল পর্যবেক্ষণে কেলি জানিয়েছেন, ‘ট্রায়ালে ১২ জনের মতো ক্রিকেটার তাদের সেরা টাইমিং করেছে। নাহিদের পারফরম্যান্স অসাধারণ ছিল, সবাই সাধ্যমতো উন্নতির চেষ্টা করেছে। খেলোয়াড়দের সম্পর্কে আমি যেটা বলতে পারি, তারা ভালো করার জন্য খুবই আগ্রহী আর অনেক কঠোর পরিশ্রম করে। ফিটনেস নিয়ে খেলোয়াদের ব্যাপারে আমার কোনো অভিযোগ নেই। তারা দায়বদ্ধ, উন্নতিতে দৃঢ় সংকল্প আর তাদের শক্তি ও পরিশ্রম করার ক্ষমতা অসাধারণ’।
এশিয়া কাপকে সামনে রেখে এই ফিটনেস ক্যাম্প চলবে আগস্ট ১৫ পর্যন্ত। এরপর নেদারল্যান্ডস সিরিজ ও এশিয়া কাপের প্রস্তুতিকে সামনে রেখে নির্বাচিত ক্রিকেটাররা চলে যাবেন সিলেটে, যেখানে অরেঞ্জদের সঙ্গে ৩ টি-টোয়েন্টি হবে আগস্টের ৩০ ও সেপ্টেম্বরের ১ এবং ৩ তারিখে।
