জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক হত্যাকা-সহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আসামি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে শুনানি করতে চেয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না। গতকাল মঙ্গলবার এ আবেদন করার পর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার আবেদনে সাড়া দেয়নি। আবেদনে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের উদ্দেশে জেড আই খান পান্না লেখেন, ‘আসামি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেহেতু পলাতক, আসামির বিরুদ্ধে চার্জ (অভিযোগ) গঠনের সময় আদালতে উপস্থিত ছিল না এবং তার অনুপস্থিতিতে বিচারকার্য পরিচালনা হবে। আমি তার পক্ষে ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনি সহায়তা দিতে প্রস্তুত আছি। মাননীয় আদালত আমাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ১২ ধারা অনুযায়ী পলাতক শেখ হাসিনার পক্ষে ন্যায়বিচারের স্বার্থে নিয়োগ প্রদানের অনুমতি প্রদান করিয়া বাধিত করিবেন।’
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্নার পক্ষে আবেদনটি ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। শুনানিতে তিনি বলেন, সিনিয়র অ্যাডভোকেট জেড আই খান পান্না আজ (গতকাল) এখানে আসতে পারেননি। তিনি শেখ হাসিনার পক্ষে স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) হিসেবে নিযুক্ত হতে চান। এ বিষয়টি তিনি (জেড আই খান পান্না) ট্রাইব্যুনালকে জানাতে বলেছেন।
এ সময় ট্রাইব্যুনালের সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ বলেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) পক্ষে স্টেট ডিফেন্স কাউন্সেল নিযুক্ত করা হয়েছে। উনি নিশ্চয়ই (জেড আই খান পান্না) প্রসিডিউর জানেন। যে মামলায় আসামি উপস্থিত থাকে, সেই মামলায় তিনি আসতে পারেন। পার্টিকুলারলি মামলায় তিনি আসবেন কেন?’ আদালত বলে, ‘কোন মামলায় কাকে দেব সেটি ট্রাইব্যুনালের বিষয়। উনি চাইলে অন্য মামলায় তাকে আইনজীবী নিযুক্ত করা যাবে।’
বিচারক আরও বলেন, ‘যখন ডিফেন্স কাউন্সেল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল, তখন তো তিনি আসেননি। তখন এলে বিবেচনা করা যেত। ট্রেন স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর যদি স্টেশন মাস্টারকে বলেন ট্রেনে উঠিয়ে দেন, তাহলে কি হবে?’ আদালত আরও বলে, ‘আমরা একজনকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট (রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী) দিয়েছি। উনি (জেড আই খান পান্না) চাইলে অন্য মামলায় তাকে দেব।’
এ সময় নাজনীন নাহার বলেন, ‘শেখ হাসিনার পক্ষে যাকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাকে তিনি (জেড আই খান পান্না) সহযোগিতা করতে চান।’ তবে, ট্রাইব্যুনাল তার এ আরজিতে সাড়া দেয়নি।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে শুনানি করতে কিছুদিন আগে অ্যাডভোকেট আমির হোসেনকে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনাল।
