চাঁদা না দেওয়ায় চট্টগ্রামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের নির্মানাধীন ভবনে হামলা ও কাজ বন্ধের অভিযোগ উঠেছে মহানগর বিএনপির এক নেতা ও তার অনুসারিদের বিরুদ্ধে। হামলায় আহত হোন আবাসন প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলীসহ ব্র্যান্ডিং বিভাগের নির্বাহী ও বেশ কয়েকজন।
বুধবার (১৩ আগস্ট) বিকালে নগরের লালখান বাজার চাঁদমারি সড়কে আবাসন প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রজেক্টে এই ঘটনা ঘটে।
হামলার বিষয়ে আবাসন প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং বিভাগের সালাহউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, লালখান বাজারের আমাদের একটি প্রজেক্টের কাজ চলমান আছে যার নাম এলএ সিদ্দিকী পার্ক। সেখানে বিএনপি নেতা আব্দুল হালিম স্বপন যিনি নিজেকে মহানগর বিএনপির পদধারী বলে পরিচয় দিয়ে আমাদের প্রকৌশলীদের কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় দলবল নিয়ে এসে আমাদের বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙচুর করেন। আমরা পুলিশকে খবর দিলে তারা আমাদের স্টাফদের উপর হামলা করে কাজ বন্ধ করে দেয়।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের আহত স্টাফদের চিকিৎসা করিয়ে থানায় জিডি করতে গেলে সেখানে আমাদের জিডি না নিয়ে আমাদের উভয় পক্ষকে থানায় আপোষ করতে ডাকা হয়। যেখানে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে আমাদের লোকদের মারধর করা হয়েছে সেখানে আমাদের অভিযোগ আমলে না নিয়ে আমাদের আপোষ করতে ডাকাটা বোধগম্য নয় বলে উল্লেখ করেন এই কর্মকর্তা।
মাসে চল্লিশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম স্বপন ও জাহাঙ্গীর একদল লোক নিয়ে এসে হামলা চালায় বলে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলাকারীদের আঘাতে আহত হোন সে প্রজেক্টের ম্যানেজার শাহরিয়ার আলম, ব্র্যান্ডিং বিভাগের নির্বাহী শোয়েবুল ইসলাম নওশাদ,ইলেক্ট্রিকাল
ইঞ্জিনিয়ার ওয়াজেদ আলীসহ বেশ কয়েকজন। ৯৯৯ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ হামলাকারীদের কাউকে পায়নি বলে জানান খুলশী থানার উপ পরিদর্শক আসাদ। আবাসন প্রতিষ্ঠানকে অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম স্বপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোথায় এমন কিছু তো হয়নি। আমি তো ছিলাম না সেখানে। আমি আমার বাচ্চা অসুস্থ দেখে তাকে নিয়ে মেডিকেল সেন্টারে চলে আসছিলাম। আমি বেশী কিছু জানি না। যেহেতু আমি রাজনীতি করি তাই আমাকে এক পুলিশ সদস্য বিষয়টি জানায় এবং সেটা সেখানেই সমাধান হয়ে গেছে। আমি তো কিছুই জানিনা।
উভয়পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাকে কেন ডাকবে আমার সাথে তো কিছু হয় নাই। প্রতিবেদকের উপর উত্তেজিত হয়ে এই নেতা বলেন, বিএনপি কি চাঁদাবাজি করে নাকি? বিএনপি এই রাজনীতি করে না। অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ আছে নাকি? আমাদের এলাকায় এরকম কত মানুষের অভিযোগ থাকে। নাথিং সিরিয়াস বলে সংযোগ কেটে দেন।
খুলশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আপনার কাছে এটি চাঁদাবাজির বিষয় তবে আমার কাছে এমন কিছু আসেনি। জিডি না নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ফৌজাদারি বিষয় কিনা আগে দেখতে হবে। আমাদের একটা টিম ঘটনাস্থলে আছে এবং আমরা উভয় পক্ষকে ডেকেছি। তাদের থেকে সবিস্তারে শুনে যদি ঘটনা মামলাযোগ্য হয় তাহলে মামলা হবে আর যদি জিডি করার মত হয় তবে জিডি হবে।
