রাজশাহী নগরীর একটি কোচিং সেন্টারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করেছে। শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ‘ডক্টর ইংলিশ’ নামের কোচিং সেন্টারে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অভিযান শুরু করেন। পরে মহানগর পুলিশ, অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) অভিযানে অংশ নেয়। গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী আটক ব্যক্তিদের রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে অভিযান সমাপ্ত করে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, আটককৃতরা হলেন মোন্তাসেরুল আলম আনিন্দ্য, মো. রবিন এবং মো. ফয়সাল। এদের মধ্যে আনিন্দ্য ইংরেজি শিক্ষক এবং কাদিরগঞ্জ এলাকার ডক্টর ইংলিশ কোচিংয়ের মালিক। তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের চাচাতো ভাই। তার বাবার নাম শফিউর রহমান লাটু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাটু অতীতে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নন। আনিন্দ্য সম্পর্কে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, তিনি ঢাকার হোলি আর্টিসান মামলায় অভিযুক্ত এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামি ছিলেন।
অভিযান শেষে রাজশাহী সেনা ক্যাম্পের কমান্ডার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এক মাসের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করা হয়। অভিযান শুরু হয় শুক্রবার রাত দেড়টায়। অভিযান চলাকালে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে বেশ কিছু বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোচিং সেন্টারের সামনের পুকুরে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তল্লাশি চালানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল পুকুরে ব্যাপক তল্লাশি চালায়, তবে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি।’
সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, সামরিক মানের দূরবীন, স্নাইপার স্কোপ, ছয়টি দেশীয় অস্ত্র, সাতটি বিদেশি ধারালো ডেগার, পাঁচটি উন্নতমানের ওয়াকিটকি সেট, একটি সামরিক মানের জিপিএস, একটি টিজার গান, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কার্টিজ, বিপুলসংখ্যক অব্যবহৃত সিম কার্ড, বিস্ফোরক বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ছয়টি কম্পিউটার সেট, নগদ ৭ হাজার ৪৪৫ টাকা, বিভিন্ন দেশি-বিদেশি মদ এবং ১১টি নাইট্রোজেন কার্টিজ (বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত) জব্দ করা হয়। এসব নাইট্রোজেন কার্টিজ বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট দ্বারা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।’
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় মামলা করা হচ্ছে। আটককৃতদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে। পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও বিস্ফোরক থেকে মনে হচ্ছে তারা সাধারণ অপরাধী নন। তাদের উদ্দেশ্য এবং এসব মজুদের কারণ জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এজন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া হবে।
