ফলোআপ

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা গ্রেপ্তার ১

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪৭ এএম

শরীয়তপুরে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে অ্যাম্বুলেন্সচালক রহিম দেওয়ান সবুজকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সদর উপজেলার বেড়া চিকন্দি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুপুরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শরীয়তপুর শহরের নিউ মেট্রো ক্লিনিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার রুমা বেগম ও নূর হোসেন সরদার দম্পতির পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। জন্মের পর নবজাতকের ম্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। স্বজনরা ৫ হাজার টাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সচালক রহিম দেওয়ান সবুজ, তার বাবা আবু তাহের দেওয়ান ও তাদের সহযোগীরা অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেন। তারা বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি তুলে চালকের কাছ থেকে গাড়ির চাবি কেড়ে নেন। দীর্ঘ সময় তর্কাতর্কি ও ধস্তাধস্তির মধ্যে চিকিৎসার অভাবে অ্যাম্বুলেন্সে নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নবজাতকের বাবা নূর হোসেন সরদার বাদী হয়ে পালং মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করে মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন রহিম দেওয়ান সবুজ (২৮), আবু তাহের দেওয়ান (৫৫), আব্দুল হাই (৫০) ও বিল্লাল (৪৫)।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালসহ জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে, যেগুলোয় ঢাকার হাসপাতালে রোগী নিতে ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ টাকা খরচ হয়। তবে ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্সে এই খরচ ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা।

জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই জানান, জেলায় প্রায় ২৫টি ব্যক্তিগত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে এবং তারা ঢাকায় রোগী নিতে ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা ভাড়া নেন।

তিনি দাবি করেন, ঢাকা থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করায় সবুজ ও তার সহযোগীদের কোনো অপরাধ ছিল না।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল আবেদীনসহ অনেকে অভিযোগ করেন, অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, স্থানীয় সিন্ডিকেট বাইরের অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নেওয়া মেনে নিতে পারেনি, যা নবজাতকের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। তারা অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটমুক্ত জেলা এবং দোষীদের বিচার দাবি করেন।

নবজাতকের বাবা নূর হোসেন বলেন, ‘স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্সে বেশি ভাড়া দিতে হবে বলে তারা ঢাকার অ্যাম্বুলেন্সের চাবি কেড়ে নেয় এবং চালককে মারধর করে। এ কারণে অ্যাম্বুলেন্স আটকে থাকায় আমার সন্তান মারা গেছে। জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পালং মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘মামলার পর যৌথ অভিযানে সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত