বুধবারের মধ্যে জুলাই সনদ নিয়ে মত দেবে বিএনপি

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৭:০০ এএম

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করে আগামী ২০ আগস্ট বুধবারের মধ্যে মতামত জানাবে বিএনপি। গতকাল রবিবার দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘খসড়ায় কিছু বিষয়ে অসামঞ্জস্যতা রয়েছে এবং কিছু বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি।’

এরইমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এই সনদের চূড়ান্ত খসড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়েছে। এতে রাষ্ট্রের সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন বিষয়ে সংস্কারের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল আলোচনার মাধ্যমে বেশ কিছু বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে সব দল সব প্রস্তাবে সম্মত হয়নি, কিছু দল কিছু সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছে।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, জুলাই সনদের চূড়ান্ত যে খসড়া দেওয়া হয়েছে সেটি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। কারণ সেখানে কিছু বিষয়ে অসামঞ্জস্য রয়েছে। পাশাপাশি কিছু বিষয় সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়।’

তিনি বলেন, ‘গত শনিবার খসড়া হাতে পেয়েছি। জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়া পর্যালোচনা করে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে মতামত জানাবে বিএনপি।’

শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো খসড়া সনদের পটভূমিতে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড এবং ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই সনদের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এই সনদের কোনো বিধান, প্রস্তাব ও সুপারিশ সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে বলবৎ হিসেবে গণ্য হবে বিধায় এর বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা কিংবা জারির কর্তৃত্ব সম্পর্কে কোনো আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না।

বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, আগামী সোমবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে এ খসড়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। খসড়ায় বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে বিএনপি একমত নয়। আলোচনা চলাকালীন তারা এসব বিষয়গুলোতে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছিল। সেগুলো পরিষ্কার না করেই খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের পর কিভাবে বিষয়গুলো নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা করা যায়, সেটা পর্যালোচনা করা হবে বৈঠকে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সাংবাদিকদের বলেন, ‘জুলাই সনদে ঐক্যের স্বার্থে বিএনপি ছাড় দিয়েছে এবং সহযোগিতা করেছে। এখন বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদকে সাংবিধানিক রূপ দিতে হলে সংসদে যেতে হবে। কিন্তু বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে যারা নানা দাবি তুলছেন, তারা আসলে ব্যর্থ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করছে।’

এদিকে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এখনই নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আসছে। এই নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে, কী হবে, সেটার জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার যে সময়, সেই সময়টা না দিয়ে আগে নির্বাচনের মাধ্যমে একটা কাঠামো তৈরি করা উচিত।’

তিনি বলেন, ‘কাঠামোয় লেখা থাকবে, যারাই দায়িত্বে আসুক, তারা পরে এই পদ্ধতিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে পারবে। এরকম হলে কুয়াশাটা অনেকাংশে কেটে যায়। গোঁ ধরে বসে থাকলে আমাদের কিছু হবে না, লাভ হবে দাদাদের আর দিদিদের।

 বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বক্তব্যে আমরা প্রায়ই শুনি, ‘আপনারা যদি সংশোধন না হন।’ কিন্তু আমি বলি, ‘আমরা যদি সংশোধন না হই।’ কারণ, আপনারা আর আমরা মিলে হচ্ছে ‘আমরা’। যতক্ষণ পর্যন্ত এই ‘আমরা’র বোধ জাগবে না, দলগত বিভাজন থেকে কোনো কল্যাণকর কিছু আসবে না।’

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, লেবার পার্টির (একাংশ) চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত