মুন্সীগঞ্জে ‘হৃদয় বাঘ’ নিহতের পর ৮ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৮ এএম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গুলিবিদ্ধ হৃদয় বাঘের মৃত্যুতে প্রতিশোধ হিসেবে হত্যা মামলার আসামি লালু ও সৈকতসহ তাদের পরিবারের আটটি বসতঘরে আগুন দিয়েছেন হৃদয়ের সমর্থকরা।

গতকাল রবিবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৮টার দিকে ইমামপুর ইউনিয়নের হোগলাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বললে জানা যায়, গত ২৮ জুলাই সকাল ১০টার দিকে মেঘনা নদীর বড় কালীপুরা এলাকায় লালু-সৈকত গ্রুপের গুলিতে গজারিয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী স্যুটার মান্নান নিহত হন। এ ঘটনায় হৃদয় বাঘসহ আরও ছয়জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ হৃদয় বাঘ ঢাকার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রোববার বিকেলে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

ঘটনার পরপরই হৃদয় বাঘের সমর্থকরা লালু, সৈকত ও তাদের আত্মীয়দের আটটি বসতঘরে আগুন ধরান। খবর পেয়ে স্থানীয়রা গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসকে অবহিত করলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অগ্নি নির্বাপন কাজ শুরু করা হয়।

গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী রাত সাড়ে ৯ টার দিকে জানান, ‘অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো আটটি বাড়ি পেয়েছি। এর মধ্যে পাঁচটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে, বাকি তিনটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও নিহত হৃদয় বাঘের আত্মীয় আমিরুল ইসলাম মেম্বার বলেন, ‘লালু একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তার অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। সে মান্নান ও হৃদয় বাঘ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী। তাই এলাকাবাসী তাদের ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। তারা একজোট হয়ে কিছু করছে কিনা আমি নিশ্চিত নই।’

অন্যদিকে লালুর মা সানোয়ারা বেগম জানান, ‘হামলাকারীরা লালু, তার বড়ভাই সানাউল্লাহ, সাইফুল্লাহ, ছোট ভাই হেদায়েতুল্লাহ ও শ্বশুর জহিরুল ইসলামের ঘরসহ মোট আটটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে। তারা পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আসার আগেই সব ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল।’

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ জানান, খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে এলাকায় শান্তি রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত