শিক্ষককে ঘাড় ধরে পেটালেন বিএনপি-ছাত্রদল নেতাকর্মীরা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪১ এএম

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমানকে স্কুলে ঢুকে মারধর করে বাজারে ঘোরানোর অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষক সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

বল্লী মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম আজাহারুজ্জামান জানান, শিক্ষক শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একজন ছাত্রীকে আলাদাভাবে পড়ানোর অভিযোগ তুলে বিএনপি ও ছাত্রদলের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী প্রথমে তার অফিসকক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন। এরপর তারা শফিকুর রহমানকে টেনেহিঁচড়ে বিদ্যালয়ের বাইরে নিয়ে গিয়ে আরও নির্মমভাবে মারধর করেন। পরে অভিযুক্তরা শিক্ষককে মারতে মারতে স্থানীয় বাজারে ঘোরান এবং একপর্যায়ে তাকে বল্লী ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখেন। এই সময় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থী গিয়ে শফিকুর রহমানকে উদ্ধার করে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনেন। ঘটনাটি বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদকে অবহিত করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শিক্ষক শফিকুর রহমানের থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য শহিনুর রহমান, কর্মী মো. কামরুজ্জামান, রবিউল ইসলাম, বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম আক্তার, বিএনপি কর্মী আব্দুল গনি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রইচ, ইসলাম কবিরাজ, বল্লী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অভিযোগে শফিকুর রহমান দাবি করেন, তাকে অপমান ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, যা তার পেশাগত ও ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর গুরুতর আঘাত।

এই বিষয়ে বল্লী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি সেলিম আক্তার বলেন, ‘রবিবার সকালে বিদ্যালয়ে শিক্ষক শফিকুর রহমানের সঙ্গে স্থানীয় কয়েকজনের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই।’ তিনি দাবি করেন, শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে এর আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছিল।

ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষক শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। শনিবার রাতে তার বিরুদ্ধে নতুন করে একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে রবিবার সকালে আমরা বিদ্যালয়ে গেলে উত্তেজিত জনতা তাকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি।’

সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি শামিনুল হক জানান, শিক্ষক শফিকুর রহমানের অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোয়াইব আহমাদ বলেন, ‘আমি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছি। শিক্ষক শফিকুর রহমানকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত