৬ হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

ছয় হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর সংবাদমাধ্যমকে জানায়, এই শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘন করেছে বা অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করেছে। বাতিল হওয়া ৬ হাজার শিক্ষার্থী ভিসার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিসাই আইন লঙ্ঘনের কারণে বাতিল হয়েছে। এই পদক্ষেপ এমন সময়ে এলো যখন ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর কড়া পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আইন লঙ্ঘনের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছিল আক্রমণ, মাদকাসক্ত অবস্থায় ড্রাইভিং, চুরি এবং সন্ত্রাসবাদে সহায়তা। যদিও পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেনি ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তা’ বলতে তারা কী বোঝাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন কিছু শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য করেছে যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে প্রতিবাদ করেছে। প্রশাসনের যুক্তি, তারা ইহুদি-বিরোধী আচরণ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ ভিসা বাতিল করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য। স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন অ্যাফেয়ার্স ম্যানুয়ালের একটি ধারা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপে জড়িত থাকা’ এবং ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ’ থাকলে ভিসার অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে ভিসা বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীরা কোন সংগঠনকে সমর্থন করত, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

বছরের শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছিল। জুনে যখন তারা অ্যাপয়েন্টমেন্ট পুনরায় চালু করেছিল, তখন ঘোষণা করা হয়েছিল যে সমস্ত আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট প্রকাশ্য রাখতে হবে যাতে যাচাই-বাছাই করা যায়। তখন ট্রাম্প প্রশাসন বলেছিল- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানের মূলনীতির বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতার ইঙ্গিত আছে কি না তা খুঁজে দেখবে তারা। এ সবের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ অ্যাকাউন্ট স্ক্রিনিং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তাদের। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, জানুয়ারি থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। সর্বশেষ সংখ্যা আমি জানি না, তবে সম্ভবত আরও করতে হবে। তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা ওপেন ডোরসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন এবং গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকার সমালোচনা করার জন্য শিক্ষার্থী ও গ্রিন কার্ডধারীরাও নির্বাসনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য হুমকি এবং হামাসপন্থি হিসেবে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে দেওয়া বাকস্বাধীনতার নিশ্চয়তার ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত