ফরিদপুরে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপরে

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৫০ এএম

ফরিদপুরে আড়িয়ালখাঁ নদ ও পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তলিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম  ও ফসলি জমি। পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন ৩টি ইউনিয়নের অন্তত ১ হাজার পরিবার। পাশাপাশি এসব এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীর তীব্র ভাঙন। যে কারণে ভাঙন আতঙ্কে ভিটেমাটি ছেড়ে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন চরাঞ্চলের অনেক পরিবার। গত গ্রায় এক সপ্তাহে আড়িয়ালখাঁ নদ ও পদ্মা নদীর ভাঙনে ঢেউখালী ও আকোটেরচর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বিঘা জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে  গেছে। হুমকিতে রয়েছে নদীর পাশে থাকা ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আড়িয়ালখাঁ নদের পানি বেড়ে বিপদসীমার ১০৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্র্রবাহিত হচ্ছে। বৃদ্ধি পেয়েছে পদ্মা নদীর পানিও। এরই মধ্যে উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের পদ্মাপাড়ে অবস্থিত শয়তানখালী ট্রলারঘাটের পাকা রাস্তা নদীভাঙন থেকে রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ নদীবেষ্টিত। এর মধ্যে চরনাছিরপুর, দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া, চরমানাইর তিন ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে চরবাসী। পানির নিচে রয়েছে আউশ ধান। পদ্মার চরের নিম্নাঞ্চলের আবাদি জমি ও চলাচলের রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বসবাসের ঘরবাড়ি এখনো প্লাবিত না হলেও বন্যার আশঙ্কায় রয়েছেন ইউনিয়নের বাসিন্দারা। অপরদিকে ঢেউখালী ও আকোটেরচর ইউনিয়নের নদীপাড়ের কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় কৃষক খলিল শেখ জানান, বন্যাকবলিত তিনটি ইউনিয়নের চরাঞ্চলে কয়েক শতাধিক হেক্টর জমির মরিচ, সবজি, কলার বাগান, আউশ ধান ও বিভিন্ন ধরনের ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

চরনাছিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রোকন উদ্দীন মোল্যা বলেন, ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। অধিকাংশ বসতবাড়িতে পানি না উঠলেও তলিয়ে গেছে মাঠের ফসল। এ ছাড়াও যোগাযোগব্যবস্থাও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এভাবেই আতঙ্কে দিন কাটছে হঠাৎ বন্যাকবলিত মানুষের।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকিয়া সুলতানা বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নদীপাড়ের বাসিন্দাদের জন্য নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো পরিস্থিতিতে বন্যাকবলিত মানুষের জরুরি পরিষেবা দেওয়া হবে।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব  হোসেন জানান, জেলার বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি বৃদ্ধির কারণে নদীতে স্রোতের পরিমাণ বেড়েছে। যে কারণে নদ-নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙন প্রতিরোধে ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় জরুরিভাবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত