কনস্টেবল খালেকের রহস্যময় সম্পদ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৪২ এএম

গ্রামের সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে পুলিশের কনস্টেবল পদে যোগ দিয়েছিলেন জেএম খালেক। কিন্তু ১৫ বছরের ব্যবধানে তাঁর জীবনযাত্রা পাল্টে যায় নাটকীয়ভাবে। এখন তাঁর নামে রয়েছে রাজধানীর বসুন্ধরা ও মিরপুরে দৃষ্টিনন্দন ফ্ল্যাট, বরিশাল ও মঠবাড়িয়ায় একাধিক প্রাসাদোপম ভবন, অর্ধশতাধিক জমি—যা কোনোভাবেই একজন কনস্টেবলের বৈধ আয়ে অর্জন সম্ভব নয়।

মঠবাড়িয়ার শাখারীকাঠি গ্রামের প্রান্তিক পরিবারে জন্ম নেওয়া খালেকের শৈশব কেটেছিল অভাবের মধ্যেই। পড়াশোনার খরচ জোগাতে পুকুর থেকে শাপলা তুলে বাজারে বিক্রি করতেন। সেখান থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে ২০০৫ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি পান।

প্রথম দিকে বরিশাল ও ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালন করলেও ডিএমপিতে বদলি হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে এক প্রভাবশালী কর্মকর্তার আত্মীয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে তাঁর ভাগ্য ঘুরে যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা। 

অভিযোগ রয়েছে, স্বাস্থ্য খাতসহ বিভিন্ন দপ্তরের চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যেই সেই টাকার জোরে দাঁড়িয়ে যায় আলিশান জীবনযাত্রা।

রাজধানীর মিরপুর নতুনবাজারে দুটি আধুনিক ফ্ল্যাট, বসুন্ধরায় বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, মঠবাড়িয়ায় কোটি টাকার দালান, বরিশালে প্লট—সব মিলিয়ে তাঁর সম্পদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে দিনকে দিন। শুধু তাই নয়, জন্মভিটা শাখারীকাঠি ও শ্বশুরবাড়ি বেতমোর এলাকায়ও স্বজনদের নামে কিনেছেন বিপুল জমি।

এখানেই শেষ নয়—ঢাকায় চলাচলের জন্য ব্যবহার করেন কোটি টাকার গাড়ি। কখনো সেটিতে সংসদ সদস্যের স্টিকার লাগানো থাকত, বর্তমানে যেটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২৩০৩৭। অবস্থান গোপন রাখতে একাধিক বিদেশি রাউটার এবং শতাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বলছে, আওয়ামী লীগের একটি অংশকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন। ২০২৪ সালের জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রিয় প্রার্থীদের জয়ী করতে কোটি কোটি টাকা খরচের কথাও এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এমনকি ভারতে পালিয়ে থাকা কিছু নেতাকে গোপনে আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি।

যৌথ বাহিনী একবার তাঁকে ধরতে অভিযান চালালেও আগাম সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যান খালেক। দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার উঠলেও মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তা ধামাচাপা পড়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। সাবেক আইজিপি ও দুদকের কাছেও অভিযোগ গিয়েছিল, তবে কার্যত কোনো তদন্ত হয়নি। পরবর্তীতে করোনার সময় হঠাৎ চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।

উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বাচ্চু মিয়া আকন বলেন, ‘কনস্টেবল পদে থেকে জেএম খালেকের সীমাহীন দুর্নীতি হয়েছে, দুদকের তা অনুসন্ধান করা জরুরি।’

সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহবুবুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘আওয়ামী লীগের অর্থদাতা খালেককে দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।’

জামায়াতের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তারেক মনোয়ার বলেন, ‘সে যতই চালাক হোক, তাকে আইনের আওতায় আনতেই হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত