বহুমাত্রিক প্রতিভার মানুষ ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। একাধারে নাটক লিখেছেন, অভিনয় করেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন, সুস্থ ধারার চলচ্চিত্র নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। টেলিভিশনে নাট্য প্রযোজনায়ও সৃষ্টি করেছেন নিজস্ব ধারা। আজ এই গুণী মানুষটির ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী।২০০৮ সালের এই তারিখে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
আবদুল্লাহ আল মামুন পেশাগত জীবন শুরু করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবে। পরবর্তীকালে পরিচালক, ফিল্ম ও ভিডিও ইউনিট (১৯৬৬-১৯৯১), মহাপরিচালক, শিল্পকলা একাডেমি (২০০১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। অসংখ্য নাটক রচনায় যেমন নিজের প্রতিভা আর শক্তির পরিচয় দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন, তেমনি নিজের অপরিমেয় ক্ষমতার প্রমাণ রেখেছেন নির্দেশনায় এবং অভিনয়েও। নাট্যসংগঠন থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। নাটকের সঙ্গে সঙ্গে নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র ও টিভি সিরিয়াল।
আবদুল্লাহ আল মামুন ১৯৪২ সালের ১৩ জুলাই জামালপুরের আমড়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। নিজের মৌলিক নাটক নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন তিনি। উইলিয়ম শেক্সপিয়রের নাটক বাংলায় অনূদিত হলে তারও নির্দেশনা দিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মামুন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস অবলম্বনে রচিত নাটকের সার্থক মঞ্চায়নও করেছেন তিনি।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মৌলিক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ কাব্যনাটকের নির্দেশক ছিলেন আবদুল্লাহ আল মামুন। তার রচিত ও নির্দেশিত নাটকে বাংলাদেশের সমসাময়িক পারিবারিক, সামাজিক এবং সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিচিত্র পেশাজীবী মানুষের কথা উঠে এসেছে।
তার রচিত ও নির্দেশিত নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সুবচন নির্বাসনে’, ‘এখনও দুঃসময়’, ‘ক্রস রোডে ক্রসফায়ার’, ‘তৃতীয় পুরুষ’, ‘কোকিলারা (১৯৯০)’, ‘দ্যাশের মানুষ’, ‘মেরাজ ফকিরের মা’ ইত্যাদি।
টিভি প্রযোজক, চলচ্চিত্রকার, নাট্যশিক্ষক, ঔপন্যাসিক ও সংগঠক হিসেবেও তার অসামান্য খ্যাতি রয়েছে। অসংখ্য নাটক রচনা ছাড়াও আবদুল্লাহ আল মামুন সাতটি উপন্যাস রচনা করেছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে আবদুল্লাহ আল মামুনই প্রথম ধারাবাহিক নাটক পরিচালনা করেন। তার পরিচালিত ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘সংশপ্তক’, ‘আমি তুমি সে’, ‘পাথর সময়’, ‘জোয়ার ভাটা’, ‘শীর্ষবিন্দু’, ‘উত্তরাধিকার’। ‘সারেং বউ’, ‘সখী তুমি কার’, ‘এখনই সময়’, ‘দুই জীবন’, ‘দমকা’সহ বেশকয়েকটি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল মামুন তার নাট্যকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং ২০০০ সালে একুশে পদক লাভ করেন। চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুবার সেরা পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।
নতুন লুকে শাকিব খান
পদাবনতি দিয়ে বদলি কৃষি কর্মকর্তাকে
পিলখানায় কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন বিজিবি মহাপরিচালক
'স্মার্ট জুটি' সারা-আন্দ্রেয়া এবার জিতলেন ১০ লাখ ডলার