মানুষের মনের কথাও বলে দেবে চিপ!

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৩২ এএম

ব্যবহারকারীদের মনের কথা বা সংলাপ বুঝতে পারে এমন এক ব্রেইন চিপ প্রযুক্তি তৈরির দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, এটি এমন এক অগ্রগতি, যা গুরুতর বাকশক্তি হারানো রোগীদের তাদের ভাবনা প্রকাশ করতে সাহায্য করবে। ফলে, কথা বলতে না পারলেও তারা যোগাযোগ করতে পারবেন।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘সেল’-এ। গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্যবহারকারীর মনের ভাব বা মনে চলা কথা ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত সঠিকভাবে ডিকোড করতে পারে এ নতুন ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস বা বিসিআই।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, শ্রবণযোগ্যভাবে কথা বলতে অক্ষম এমন মানুষদের সহজে নিজের কথা বা ভাব প্রকাশ ও যোগাযোগ করতে সাহায্য করবে এ নতুন প্রযুক্তি।

‘স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি’র গবেষক ও এ গবেষণার সহলেখক এরিন কুনজ বলেছেন, ‘এই প্রথম আমরা বুঝতে পেরেছি যে, যখন আপনি কেবল কথা বলার কথা ভাবেন তখন মস্তিষ্কের কার্যকলাপ কেমন দেখায়। যাদের কথা বলায় বা নড়াচড়ায় গুরুতর সমস্যা রয়েছে, তাদের মনের ভাবনা পড়তে বা ডিকোড করতে পারবে আমাদের তৈরি এই বিসিআই প্রযুক্তি। ফলে আরও সহজে ও স্বাভাবিকভাবে যোগাযোগ করতে পারবে তারা।’

মস্তিষ্কের যেসব অংশ দেহের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে সেখানে ছোট সেন্সর বসিয়ে কাজ করে এই বিসিআই প্রযুক্তি। এসব সেন্সর মস্তিষ্কের সংকেত পড়ে তা ব্যাখ্যা করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।

সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এখন পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা যারা নড়াচড়া বা কথা বলতে পারেন না, সেসব মানুষের ভাবনাও বুঝতে পারছে এই ব্রেইন চিপ।

যখন কেউ কথা বলার চেষ্টা করে, অর্থাৎ শব্দ তৈরির জন্য মুখের পেশিগুলো সক্রিয় করে তখন সেই সময়ের মস্তিষ্কের সংকেত বুঝে নিতে পারে চিপটি, এমনকি কথাগুলো স্পষ্ট না হলেও এই প্রযুক্তি তা ধরতে পারে এবং তা লেখায়ও রূপান্তর করতে পারে।

এ গবেষণার আরেক লেখক বেনইয়ামিন মেশেডে-ক্রাসা বলেছেন, ‘আপনাকে যদি শব্দ না করে শুধু মনে মনে কথা ভাবলেই সেসব কথা বোঝা যায় তাহলে আপনি আরও সহজে ও দ্রুত মনের ভাব প্রকাশ করতে পারবেন।’

সর্বশেষ এ গবেষণায় চারজন অংশগ্রহণকারীর মস্তিষ্কের মোটর কর্টেক্স বা মানুষের কথা বলার স্নায়ুতে ছোট ছোট ইলেকট্রোড বসিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চারজনের মধ্যে কেউ ‘অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস’ বা এএলএস’র রোগী, কেউ বা ব্রেইনস্টেম স্ট্রোকে আক্রান্ত বা তাদের গুরুতর পক্ষাঘাত রয়েছে।

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের কথা বলার চেষ্টা বা কল্পনা করতে বলা হয়েছিল। তবে কথা বলার চেষ্টা করা বা কল্পনা করতে বলার সময় মস্তিষ্কের অনেক অংশই একই রকমভাবে সক্রিয় হয় এবং সংকেতও প্রায় একই রকম থাকে। তবে এগুলো এতটাই ভিন্ন ছিল যে, সহজেই মস্তিষ্কের দুই ধরনের সংকেত আলাদা করতে পেরেছেন বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, মনে মনে কথা ভাবার সময় মস্তিষ্কের সক্রিয়তা সামগ্রিকভাবে একটু কম হয়। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে এই ভাবনা থেকে কথাগুলো বুঝে বের করেছেন তারা।

এই ব্রেইন চিপটি এআই ব্যবহার করে ১ লাখ ২৫ হাজার শব্দের এক শব্দভাণ্ডার থেকে মনে মনে ভাবা বিভিন্ন বাক্য ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত সঠিকভাবে বুঝতে পারে।

গবেষণার আরেক লেখক ফ্রাঙ্ক উইলেট বলেছেন, ‘এ কাজ নিয়ে আমরা সত্যিই আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে বিসিআই প্রযুক্তি এমন হবে, যা মানুষের সাধারণ কথোপকথনের মতো স্বাভাবিক, সহজ ও আরামদায়ক যোগাযোগ ফিরিয়ে দেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত