যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার অ্যানকরেজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে ইউক্রেনের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে শান্তির পথের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইউক্রেনকে পূর্বের দনবাস অঞ্চল ছাড়ার, ন্যাটো যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগের, নিরপেক্ষ থাকার এবং পশ্চিমা সেনারা দেশটিতে প্রবেশ না করার শর্ত দিয়েছেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছেন, গত শুক্রবারের ৩ ঘণ্টার বৈঠকে দুই নেতা মূলত ইউক্রেনের যুদ্ধের সমাধান এবং সম্ভাব্য আপোসের শর্ত নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকের পরে পুতিন সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকটি আশা জাগাচ্ছে যে ইউক্রেনে শান্তির পথ খুলতে পারে। তবে বৈঠকে বিস্তারিত বিষয় প্রকাশ করা হয়নি।
রাশিয়ার সূত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুনে পুতিন যেসব ভূ-খণ্ড দাবি করেছিলেন – পূর্বের ডনেটস্ক ও লুহানস্ক (দনবাস), দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিজিয়া – তার তুলনায় তিনি আংশিক আপোস করেছেন। নতুন প্রস্তাবে, ইউক্রেনকে দনবাসের নিয়ন্ত্রণে থাকা অংশ ছাড়তে হবে। বদলে রাশিয়া খেরসন ও জাপোরিজিয়ায় বর্তমান ফ্রন্টলাইন স্থগিত রাখবে। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন দনবাসের প্রায় ৮৮ শতাংশ এবং খেরসন ও জাপোরিজিয়ার ৭৩ শতাংশ। এছাড়া খারকিভ, সুমি ও দনিপ্রোপেট্রোভস্কের ছোট অংশও সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় হস্তান্তর করা হতে পারে।
পুতিন আগের শর্তগুলোর প্রতি অটল রয়েছেন ইউক্রেন ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করবে, যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট পূর্ব দিকে সম্প্রসারণ না করার আইনি প্রতিশ্রুতি দেবে, ইউক্রেনি সেনা সীমিত থাকবে এবং দেশটিতে শান্তি রক্ষার জন্য পশ্চিমা সেনা মোতায়েন করা হবে না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বারবার বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইউক্রেনি ভূখণ্ড থেকে সরে যাওয়া অসম্ভব। দনবাস তাদের দেশের শক্তিশালী কেল্লা হিসেবে কাজ করছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘কেবল পূর্ব ইউক্রেন ছাড়ার কথা থাকলে আমরা তা করতে পারব না। এটি আমাদের দেশের অস্তিত্বের প্রশ্ন।’ ন্যাটো যোগদানও সংবিধান অনুযায়ী দেশের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি চাইছেন যুদ্ধের ‘রক্তপাত’ বন্ধ হোক এবং স্মরণীয় হোন ‘শান্তির স্থপতি হিসেবে’। তিনি ইতোমধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের বৈঠকের ব্যবস্থা করেছেন এবং পরবর্তীতে ত্রিপক্ষীয় সম্মেলনও হতে পারে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্গেই লাভরভ জানান, পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার জন্য প্রস্তুত, তবে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সব বিষয় নিরূপণ করা দরকার এবং জেলেনস্কির ক্ষমতা বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দনবাস থেকে ইউক্রেনের সরে যাওয়া চুক্তি রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। রাশিয়ার আপোস বা প্রস্তাবের মূল চ্যালেঞ্জ হলো, ইউক্রেন কতটুকু ভূমি ছাড়তে রাজি। আলাস্কা সম্মেলন থেকে প্রকাশ, সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সবচেয়ে ভালো সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সূত্ররা জানিয়েছেন, পুতিন আপোস করতে প্রস্তুত, কিন্তু যদি ইউক্রেন ডনবাস ছাড়তে না চায়, যুদ্ধ চলবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘যুদ্ধ বা শান্তি – এ দুই বিকল্প রয়েছে, আর শান্তি না হলে আরও যুদ্ধ হবে।’
সূত্র: রয়টার্স
ইরানি তেল আমদানির অভিযোগে চীন-গ্রিস সংস্থার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
ইরানের ব্যবসায়ী ও ৪ কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্যের