জনপ্রশাসন সচিব বললেন

পাথর লুটে প্রশাসনের যারাই জড়িত ছাড় পাবেন না

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৫, ০৮:১২ এএম

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোখলেস উর রহমান বলেছেন, সাদাপাথরে লুট নয়, হয়েছে হরিলুট। এই হরিলুটে যারাই জড়িত, তিনি যত বড় দলের নেতাই হোন কিংবা প্রশাসনের হোন না কেন, ছাড় পাবেন না। আইনের আওতায় আনা হবে। গতকাল শুক্রবার সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাদাপাথর পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সচিব ড. মোখলেস আরও বলেন, সাদাপাথরসহ অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ প্যাকেজ কর্মসূচি নেওয়া হবে। অবকাঠামো নির্মাণ, পর্যটকের নিরাপত্তা, পর্যটনকেন্দ্রের সৌন্দর্য অটুট রাখা এ সবকিছুই থাকবে প্যাকেজে। পাশাপাশি সাদাপাথরকে সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হবে।

সাদাপাথরে নজিরবিহীন লুটপাটের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখলেস উর রহমান। তদন্ত কাজের অংশ হিসেবে গতকাল তিনি সরেজমিনে সাদাপাথর এলাকায় যান। এ সময় তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও সেখানকার লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব সাইফুল ইসলাম, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা উন নবী, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম প্রমুখ।

পরিদর্শনকালে খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাইফুল ইসলাম বলেন, লুট হওয়া পাথর ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে, প্রতিস্থাপনও করা হচ্ছে। হয়তো আগের মতো পুরো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফিরবে না, তবে আগের অবস্থায় ফেরাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্রের পাথর লুটের ঘটনায় গত ২০ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে লুটপাটে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটি গঠন নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বলা হয়, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র ও রেলওয়ের বাঙ্কার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও পর্যটনকেন্দ্রের নান্দনিকতা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত কমিটি গঠিত হলো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত