ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুল্ক নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ৩৮ বছর বয়সী সার্জিও গোরকে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছেন। গোর বর্তমানে হোয়াইট হাউসের প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শুক্রবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সার্জিও আমার দীর্ঘদিনের বন্ধু, যিনি সবসময় আমার পাশে ছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে তাকে আমি যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, গোর দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক একটি বিশেষ দূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গোরের মনোনয়নকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজন অসাধারণ প্রতিনিধি হবেন।’
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘সার্জিও গোর ভারতের জন্য এক চমৎকার রাষ্ট্রদূত হবেন।’
জানা গেছে, গোর এরিক গারসেটির স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০২৩ সালের মে থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে রাষ্ট্রদূত ছিলেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, অন্যান্য বড় দেশের তুলনায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের মনোনয়ন কিছুটা দেরিতে দিলেন ট্রাম্প।
কেন সার্জিও গোরকে বেছে নিলেন ট্রাম্প?
ব্লুমবার্গ বলছে, গোরের ভারতে বিশেষ কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও, রাষ্ট্রদূত পদে অভিজ্ঞতার অভাব সাধারণত বাধা হয় না। দীর্ঘদিন ধরেই এই পদগুলো রাজনৈতিক সমর্থক, বন্ধু বা অর্থ সংগ্রহকারীদের জন্য বরাদ্দ হয়ে থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন লস অ্যাঞ্জেলসের সাবেক মেয়র ও ২০২০ নির্বাচনে তার প্রচারাভিযানের সহ-সভাপতি এরিক গারসেটিকে।
পলিটিকো সূত্রে জানা গেছে, এই মনোনয়ন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের কৌশলগত বার্তা। ‘এই মনোনয়নের মাধ্যমে মোদি সরকারকে একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছেন ট্রাম্প— যে রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে আসা প্রতিটি বার্তাই সরাসরি প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আসবে।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারত একদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে চাচ্ছে, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প ভারতের বিরুদ্ধে ৫০% শুল্ক আরোপ করেছেন এবং রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় দেশটিকে ‘অপ্রয়োজনীয় ও মৃতপ্রায় অর্থনীতি’ বলেও অভিহিত করেছেন।
তবুও, কৌশলগত, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের গভীরতা উভয় দেশকে সম্পর্ক মেরামতে উৎসাহ দেয়।
সাবেক হোয়াইট হাউস স্ট্র্যাটেজিস্ট স্টিভ ব্যানন গোরের নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘সার্জিও সম্ভবত সিউসি ওয়াইলস ও কিছু শীর্ষ উপদেষ্টাদের বাইরে একমাত্র ব্যক্তি, যার যেকোনো সময় প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি আছে। তিনি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ, বিশ্বস্ত—এটাই ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
কে এই সার্জিও গোর?
সার্জিও গোর জন্মগ্রহণ করেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্গত উজবেকিস্তানে। পরে শিশু অবস্থায় মাল্টায় চলে যান। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর রিপাবলিকান রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি প্রথমে সেনেটর র্যান্ড পলের সহকারী হিসেবে কাজ করেন, যিনি বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী ছিলেন।
পরে তিনি ট্রাম্পের ফান্ডরেইজার, বই প্রকাশক এবং এমনকি শখের বিয়ের ডিজে হিসেবেও কাজ করেছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, গোর প্রেসিডেনশিয়াল পার্সোনেল অফিসে সফলভাবে ৯৫ শতাংশ পদ পূরণ করেছেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বেই থাকবেন।
