চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যায় চিন্ময়সহ ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৫, ০১:৫৫ পিএম

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার মামলায় পুলিশের জমা দেওয়া অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করেছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন মাহমুদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি অঞ্চল) মাহফুজুর রহমান গত ১ জুলাই সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসসহ ৩৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। তবে তদন্তে প্রাপ্ত সুকান্ত নামের এক আসামির নাম অভিযোগপত্র থেকে বাদ পড়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তোলে। এ কারণে বাদীপক্ষ ওই দিনই সুকান্তকে মামলায় যুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করে। শুনানির পর আদালত বাদীর আবেদন মঞ্জুর করে মোট ৩৯ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ মে আদালত চিন্ময় দাসকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান। সোমবার চিন্ময়কে আদালতে হাজির করা না হলেও তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ভার্চ্যুয়ালি শুনানিতে অংশ নেন।

গত বছরের ২৬ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলামের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যার মামলা করেন। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে আরও পাঁচটি মামলা হয়। ছয়টি মামলায় মোট ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল হত্যার আসামিদের মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাতে তারা উল্লেখ করেন, আইনজীবীর ঘাড়ে বঁটি দিয়ে দুটি কোপ দেন রিপন দাস। আর কিরিচ দিয়ে কোপান চন্দন দাস। পরে রাস্তায় পড়ে থাকা সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা এই আইনজীবীকে লাঠি, বাটাম, ইট, কিরিচ ও বঁটি দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জন মিলে পিটিয়ে হত্যা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান জানান, চিন্ময়ের উসকানি ও নির্দেশনায় আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। তাই তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ডে বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকা অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই মামলায় গত ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত