বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনবিষয়ক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অগণিত অনিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্সি পান-সিগারেটের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় বসে বিমানের টিকিট বিক্রি করছে এবং এভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে।
তার মতে, নিবন্ধিত ট্রাভেল এজেন্টের সংখ্যা যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার, সেখানে অনুমানিক বিশ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত এজেন্ট সক্রিয় রয়েছে।
সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিকিটের অস্বাভাবিক দাম ঠেকাতে এবং পর্যটন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে বিমানবন্দরে চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন, শিগগিরই আরও একজন যোগ হবেন।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারা প্রতিবেদন দিচ্ছেন, আর সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আইন প্রয়োগ করা হবে।
উপদেষ্টা আরও জানান, টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও প্রতারণা ঠেকাতে সিন্ডিকেটে জড়িতদের কর-সংক্রান্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখা হবে।
এ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্টদের টিকিটের গায়ে দাম উল্লেখ করতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। শুধু অফলাইন নয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও নানা ধরনের অনিয়ম হচ্ছে, এমনকি দেশের টিকিট বিদেশ থেকে বিক্রি হওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, টিকিটের দাম সাধারণত সময় ও চাহিদার ওপর নির্ভর করলেও অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ঘাটতি তৈরি করে বাড়তি অর্থ আদায় করছে।
তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী এজেন্টদের তথ্য সরকারের হাতে আছে, তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংখ্যা প্রকাশ করা হবে না।
