তিন ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৫, ১২:২৫ এএম

কেউ স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে পরিবারের লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়ে। কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না। স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তি যদি ৯০ দিন বা তিন মাসের মধ্যে পূর্ণ সুস্থ না হতে পারেন তবে দীর্ঘদিন কষ্ট করতে হয়। এমনকি দুই তিন বছর বা সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করতে হয়।

স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, মেডিসিনের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়া আনা, ওয়ার্কের মাধ্যমে সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা যত দ্রুত শুরু করা যাবে রোগী তত দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। শুধু মেডিসিন চিকিৎসার ওপর নির্ভর করে  রোগীকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অনেক ক্ষেত্রে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

স্ট্রোক সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে ১-ইসকেমিক স্ট্রোক, ২-হেমোরেজিক স্ট্রোক, ৩-ট্রাঞ্জিয়েন্ট ইসিকেমিক স্ট্রোক। 

ইসকেমিক স্ট্রোক সাধারণত মস্তিষ্কের রক্ত চলাচল যেকোনো কারণবশত বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে। হেমোরেজিক স্ট্রোক সাধারণত রক্তনালি ফেটে গিয়ে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হয়। নারীদের তুলনায় পুরুষরা স্ট্রোকে আক্রান্ত বেশি হয়। ট্রাঞ্জিয়েন্ট ইসিকেমিক স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীরা খুবই অল্প সময়ে ভালো হয়ে যায়, কোনো চিকিৎসারও প্রয়োজন হয় না। অনেক ক্ষেত্রে ইসকেমিক স্ট্রোক ন্যাচারালি উন্নতি করে।

কারণ

অনেক কারণে স্ট্রোক আক্রান্ত হয়ে থাকে তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, আঘাত পাওয়া, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, রক্তে উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের উপস্থিতি, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত নিকোটিন বা অ্যালকোহল সেবন।

লক্ষণ

শরীরের যেকোনো অংশ বা একপাশ অবশ হওয়া। কথায় জড়তা উপলব্ধি হওয়া অথবা কথা বলা বন্ধ হয়ে যাওয়া। চোখে ঝাপসা বা ডাবল ভীষণ হওয়া। হঠাৎ প্রচ- মাথাব্যথা বা বমি বমি ভাব হওয়া। শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে অসমর্থ হওয়া। খিঁচুনি বা জ্ঞান হারানো। ঘুম ঘুম ভাব। মুখ একপাশে বেঁকে যাওয়া।

চিকিৎসা

স্ট্রোক হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ বা আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে তাড়াতাড়ি হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। লক্ষণ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে মেডিকেল সাপোর্ট নিশ্চিত করা। যদি সম্ভব হয় আক্রান্ত হওয়ার চার ঘণ্টার মাঝে স্ট্রোক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে পারলে আধুনিক চিকিৎসায় ৯৮ শতাংশ রোগী খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

যদি কোনো কারণে এ সময়ের মধ্যে রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হতে পারে তবে পরে দুটি চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিতে হয়। এক. মেডিসিন। দুই. ফিজিওথেরাপি। এই দুটি চিকিৎসাই একে অপরের পরিপূরক। কারণ রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে হলে টিমওয়ার্ক চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখনই মেডিসিন এবং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা একসঙ্গে করা সম্ভব হয় তখন রোগী খুব দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারে। পারিবারিকভাবে সাপোর্ট বা নার্সিং কেয়ার সেই সময় খুবই গুরুত্ব বহন করে। রোগীকে একজন নিউরোলজি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু ওষুধ সেবন করার সঙ্গে সঙ্গে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নিশ্চিত করতে হবে। তবেই রোগী অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার স্বাভাবিক জীবনে তথা কর্মজীবনে ফিরে যেতে সক্ষম হবে। তাই বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি বিষয়ে জানাদের শরণাপন্ন হওয়ার দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত