কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ের সালাউদ্দিন নামের এক সহকারী কৃষি শিক্ষক গত এক বছরের বেশি সময় ধরে কাতারে অবস্থান করছেন। যাহার ইনডেক্স নং- ১১১১৮২২। বিদ্যালয়ে না এসেও এখনও তিনি শিক্ষক পদে বহাল রয়েছেন এবং নিয়মিত নিচ্ছেন সরকারি বেতন-ভাতা।
বিদ্যালয়ের সূত্র ও স্থানীয়রা বলছেন, সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে আসেন না। অথচ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি।
জানা গেছে, ২০১৬ সালে নাঙ্গলকোট উপজেলা ছাত্রলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও হেসাখাল ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন সালাউদ্দিন। একই সময়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সামছুদ্দিন কালুর সুপারিশে তাকে দায়েমছাতি উচ্চ বিদ্যালয়ে কৃষি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক হলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের মতো আচরণ করতেন। জোর করে কর্তৃত্ব করতেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের ওপর। এলাকায় ‘হেলমেট বাহিনীর প্রধান’ হিসেবেও ছিলেন পরিচিত।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, “তিনি নিয়মিত ক্লাস নিতেন না। ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার সুবাদে সব সময় রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতেন। শিক্ষকদেরও ভয়ভীতি দেখাতেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাসে সালাউদ্দিন হঠাৎ করেই বিদেশ চলে যান। কোনো সরকারি অনুমতি বা ছুটি না নিয়ে তিনি পাড়ি জমান কাতারে। এরপর থেকে ১৩ মাস কেটে গেলেও বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাকে নিয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি প্রতিমাসে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।”
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, “স্যার তো অনেক দিন আসেন না। ক্লাস অন্য স্যাররা নিলেও আগের মতো ঠিকঠাক পড়া হয় না।”
স্থানীয় অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “বাচ্চারা ঠিকমতো কৃষি পড়তে পারছে না। অথচ দেশে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণ চাকরির জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে। সেখানে একজন বিদেশে থেকে শুধু প্রভাব খাটিয়ে সরকারি টাকা নিচ্ছেন—এটা আমরা মানতে পারছি না।”
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মফিজুর রহমান বলেন, “গত বছরের ৫ আগস্টের পর সালাউদ্দিন স্কুলে আসেননি। সেপ্টেম্বর থেকে তার বেতন বন্ধ এবং তাকে শোকজ করা হয়েছে।”
একজন শিক্ষক এক মাস অনুপস্থিত থাকলেই যেখানে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেখানে ১৩ মাস পর কেন শোকজ করা হলো? প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন নি প্রধান শিক্ষক।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন নয়ন (ছোট নয়ন) বলেন, “আমি মাত্র দুই মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। এর মধ্যেই দুইবার শোকজ করেছি সালাউদ্দিনকে। এবার আরেকটি চূড়ান্ত শোকজ পাঠানো হবে। জবাব না পেলে তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইউনুস বলেন, “আমরা দুইবার চিঠি দিয়েছি—প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে জানাতে। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বিষয়টি জানাননি।”
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন সরকার বলেন, “এখন প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এডহক কমিটি রয়েছে। তাদেরই দায়িত্ব হচ্ছে এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া। প্রয়োজনে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”
