ডাকসু নির্বাচনে চলছে টাকার ছড়াছড়ি

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী সংসদ’ প্যানেল থেকে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিচ্ছেন স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ঢাবি প্রতিনিধি এইচ এম

খালিদ হাসান

দেশ রূপান্তর : নির্বাচন নিয়ে কেমন পরিবেশ দেখছেন। নির্বাচন পেছানোর আশঙ্কা আছে কি না?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : পরিবেশ এমনিতে মোটামুটি ভালোই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে কিছু কিছু প্যানেল থেকে বা প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘিত হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এটা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বস্ততার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলেই মনে করছি।

দেশ রূপান্তর : এ ক্ষেত্রে প্রশাসন কি কাউকে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : এটা তো এখন প্রমাণিত। এটাই হচ্ছে এখন। কাউকে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করার পরও তাদের ন্যূনতম নোটিস দিয়ে সতর্ক করা হচ্ছে না। আজকের (গতকাল) মিটিংয়ে আমরা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি।

যদি তারা অন্তত নোটিস দিয়ে সতর্ক করত, তাহলেও বলা যেত প্রশাসন অতিরিক্ত সুযোগ দিচ্ছে না।

দেশ রূপান্তর : আপনি তো ২০১৯ সালের ডাকসু দেখেছেন। সেই নির্বাচনের সঙ্গে এবারের নির্বাচনের পার্থক্যটা কোথায় দেখছেন?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : এবারের নির্বাচন সম্পূর্ণ আলাদা। তখন তো ছাত্রলীগ সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করত। নির্বাচন শুধু হয়েছিল, কিন্তু কেউ প্রচার-প্রচারণা করতে পারেনি। এবার তো উৎসবমুখর পরিবেশ। সবাই সবার জায়গা থেকে কাজ করছে। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা টাকা-পয়সার জন্য একটু পিছিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো প্যানেল থেকে প্রচুর টাকা ছড়ানো হচ্ছে, খাওয়াদাওয়া করা হচ্ছে, ভেতরে ভেতরে অনেক কিছু করা হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী প্রার্থী ও নারী ভোটাররা বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না কেন?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : এ ব্যাপারটা অনেক আগে থেকেই হচ্ছে। প্রশাসনকে বারবার বলা হচ্ছে বিভিন্ন দিক থেকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। আর বুলিং যেহেতু ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে হচ্ছে, সেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সরাসরি ব্যবস্থা নিতেও পারবে না। তবে প্রশাসন চাইলে আইটি সেল বা সরকারের যে এজেন্সি আছে, তাদের সহায়তা নিয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে।

দেশ রূপান্তর : আপনি এবং আপনার প্যানেল শিক্ষার্থীদের থেকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : আলহামদুলিল্লাহ আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা আমাদের সাদরে গ্রহণ করছেন। আমরা শিক্ষার্থীদের কাছে যাচ্ছি, আমাদের ইশতেহার তুলে ধরছি।

দেশ রূপান্তর : আপনি সবসময় ইসলামি বিধিবিধান মেনে চলাফেরা করেন। সে ক্ষেত্রে কোনো বাধা বা কটুবাক্য শুনতে হয় কি না?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : আমি যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাসে অ্যাকটিভিজম করেছি, সেহেতু সবার সঙ্গে আমার সুসম্পর্ক ও ভালো বোঝাপড়া রয়েছে। তাছাড়া আমি সবসময় ইমেজ রক্ষা করে চলার চেষ্টা করেছি। আমার বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক ধারণা শিক্ষার্থীদের নেই। তাই এখনো কারও বাধা পাইনি। তবে মিডিয়া থেকে বিমাতাসুলভ আচরণ পাচ্ছি। মিডিয়া অবশ্য শুধু আমার সঙ্গেই এমন করছে তা নয়, অন্যদের সঙ্গেও করছে। কিছু জায়গায় দেখেছি, সংবাদ সম্মেলনে আমি কথা বলার সময় তারা লাইভ বন্ধ করে রাখে, আমার কথা শেষ হলে লাইভ চালু করে। এর কারণ কী জানি না। তবে পোশাকের কারণে ক্যাম্পাস থেকে কোনো বাধা পাইনি।

দেশ রূপান্তর : শিক্ষার্থীরা কেন আপনাকে ভোট দেবে?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : শিক্ষার্থীরা আমার কাজের জন্য আমাকে ভোট দেবে। বিগত ছয় বছর ধরে আমি ক্যাম্পাসে আছি ও অ্যাকটিভিজম করছি। অভ্যুত্থানের আগে বা পরে আমি মাঠে শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে ছিলাম। তারা সবাই আমাকে চেনে ও জানে। দলকেন্দ্রিক লেজুড়বৃত্তি কাজের বাইরে এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।

দেশ রূপান্তর : আসন্ন ডাকসুতে আপনার অঙ্গীকার কী?

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : আসন্ন ডাকসুতে আমি শিক্ষার্থীদের ভোটে জয়ী হতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে কাজ করব। প্রশাসনিক ভবনের লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করতে কাজ করব। যদিও কিছুদিন আগে আমি একটি অ্যাপ চালুর প্রস্তাব করেছি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। প্রশাসনিক ভবনের সব কাজকে আমি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনতে চাই। তাছাড়া, আমি বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করব। তারা দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যায় ভুগছে। হলগুলোর ক্যান্টিনের খাবারের মান খুবই খারাপ। আমার পরিকল্পনা হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি হল ক্যান্টিনের খাবারের দাম ও মান নির্ধারণ ও অভিন্ন রাখা। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী দিনের বেলায় ফাস্টফুডের ওপর নির্ভরশীল। সে বিবেচনায় এসব খাবারের ওপর কর কমাতে কাজ করব। এসব সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হলে শিক্ষার্থীদের জীবনমানের উন্নয়ন হবে এবং তারা গবেষণার ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে ধন্যবাদ।

জামালুদ্দীন মুহাম্মাদ খালিদ : দেশ রূপান্তরকেও ধন্যবাদ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত